সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চরিয়া শিকার আকন্দ পাড়া এলাকার মৃত মছির উদ্দিনের ছেলে হাটিকুমরুল ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে শামিম হোসেনের পুকুর থেকে রাতের আধারে মাছ চুরি করে নিজের পুকুরে ছেঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানাজায়, হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চরিয়া শিকার আকন্দ পাড়া এলাকার নদীর পূর্ব পাড়ে আব্দুল মান্নানের একটি পুকুর রয়েছে এছাড়াও পাশাপাশি একই এলাকার আমিনুল ইসলাম ও তার চাচাতো ভাইদের তিনটি পুকুর রয়েছে। পুকুর তিনটি চরিয়া শিকার উত্তর পাড়া এলাকার শামিম হোসেন লিজ নিয়ে চাষাবাদ করে আসছিলেন।
গত তিন থেকে চারদিন আগে গভীর রাতে জেলেরা জাল ও মাছ নিয়ে হাটিকুমরুল বাজারে এলাকায় পৌছালে লোকজনের সন্দেহ হলে জেলেদের হাটিকুমরুল বাজারে আটক করে ।
তাদের জিগ্যাসাবাদে বেরিয়ে আসে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
তবে পুকুরের মালিক সনাক্ত করতে না পেরে তারা ভিডিও করে ছেড়ে দেয়।
পরে ভুক্তভোগী শামিম হোসেন বিষয়টি জানতে পেরে সেই ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘুরকা ইউনিয়নের ইচলা গ্রামে জেলেদের কাছে গেলে জেলেরা মাছ চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন।
তারা জানায়, ২০ হাজার টাকা চুক্তিতে পাশের পুকুর থেকে মাছ তুলে তারা সেক্রেটারি মান্নানের পুকুরে দিয়ে এসেছে।
হাটিকুমরুল বাজারে লোকজন তাদের আটক করে,পরে ছেড়ে দেয়।
এ ব্যাপারে হাটিকুমরুল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, শামিম হোসেন জানান, আমি আমিনুল ইসলাম ও তার চাচাত ভাইদের তিনটি পুকুর লিসের মাধ্যমে চাষাবাদ করে আসছি। তবে গভীর রাতে মান্নান জেলেদের দিয়ে আমার পুকুরের মাছ চুরি করে পার্শ্ববর্তী তার নিজ পুকুরে ঢেলে দেয়।
আমি পরে হাটিকুমরুলের জেলেদের আটকের বিষয়ে জানতে পেরে সেখানে গিয়ে ভিডিও ও ছবি নিয়ে জেলেদের কাছে হাট ইছলা গ্রামে গেলে জানতে পারি, আমার পুকুরের মাছ ই চুরি হয়েছে,
এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলেছে।
অভিযুক্ত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল মান্নানের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাকে ফাসানো হচ্ছে। চোর ধরে রাখতে পারত, তা না করে ভিডিও করে রেখেছে কেন। আমি বাইরে আছি এলাকায় এসে ব্যাপারটা দেখব।
এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীর অনেকেই জানান, মান্নান ও তার ভাই মতি এলাকায় দীর্ঘদিন হলো ইয়াবা ও গাঁজার ব্যাবসা পরিচালনা করে আসছে।এতে এলাকার যুবসমাজ ধংস্ব হয়ে যাচ্ছে। তারা এলাকায় বিভিন্ন অপরাধ অপকর্মে লিপ্ত। আওয়ামীলীগ ক্ষমতা থাকাকালীন কেউ মুখ খুলত না।অবৈধ ব্যাবসা করে শুন্য থেকে কোটি টাকার মালিক ও হয়েছেন।
একসময়ে বাসের চেইনএর নামে চাঁদা তোলা মান্নান এখন ডুপ্লেক্স বাড়ির মালিক ও কোটি টাকার সম্পদের মালিক। তার ভাই মতিও একসময় চেইন মাস্টারি করত এখন মাদক ব্যবসা করে সেও অনেক টাকার মালিক। এখনও প্রাভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছুই বলে না। তাদের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রসাসনের হস্তক্ষেপও কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল

