সোহেল খান দূর্জয়- নেত্রকোনা : নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরশহরে এক চিকিৎসকের ভাড়া বাসায় অভিনব কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটেছে। দরজার তালা অক্ষত রেখেই দুর্বৃত্তরা ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করে আলমিরার ড্রয়ারের তালা ভেঙে প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। রোববার মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে শনিবার বিকেলে পৌরশহরের মাইলোড়া এলাকার একটি চারতলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী চিকিৎসক অন্নপূর্ণা দেব পাশ্ববর্তী বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত। তিনি তার মা জবা দেবকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।
জানা গেছে, শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো অন্নপূর্ণা দেব তার মাকে সঙ্গে নিয়ে কর্মস্থলে যান। বিকেলে বাসায় ফিরে অন্যদিনের মতো চাবি দিয়ে মূল দরজার তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা দেখতে পান, ঘরের আলমিরার জিনিসপত্র বের করে বিছানার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। আলমিরার ড্রয়ারের তালা ভাঙা এবং সেখানে রাখা ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা নেই। চিকিৎসক অন্নপূর্ণা দেব বলেন, আমি প্রতিদিনের মতো শনিবার সকালেও ফ্ল্যাটের মূল দরজায় তালা লাগিয়ে মাকে সঙ্গে নিয়ে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিউটিতে যাই। বিকেলে ফিরে দেখি দরজার তালাটি বাহ্যিকভাবে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে দেখি আলমারির ড্রয়ার বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে। ড্রয়ারে রাখা ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা গায়েব।
এদিকে তার মা জবা দেব বলেন, দরজার তালা স্বাভাবিক ছিল। আমরা চাবি দিয়েই তালা খুলে ভেতরে ঢুকেছি। অন্য কোনো দিক দিয়েও ফ্ল্যাটে প্রবেশের চিহ্ন নেই। কীভাবে চোর ভেতরে ঢুকল, তা বুঝতে পারছি না। খবর পেয়ে মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ফ্ল্যাটে জোরপূর্বক প্রবেশের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখনো ভুক্তভোগী চিকিৎসক লিখিত অভিযোগ দেননি।

