• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীরা 

     Md Mokter Hossain 
    09th Jul 2026 2:37 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    ‎মো. কামরুল ইসলাম – সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

    ‎মানুষ সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে আসে। কিন্তু সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এসে রোগী ও স্বজনদের পড়তে হচ্ছে উল্টো স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। হাসপাতাল জুড়ে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, অপরিষ্কার ড্রেন, দুর্গন্ধ, ব্যবহার অনুপযোগী গণশৌচাগার এবং মশার প্রজনন স্থলে পরিণত হওয়ায় পরিবেশ নিয়ে চরম ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে।
    ‎সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, প্রধান ভবনের চারপাশে ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের উচ্ছিষ্ট, ঔষধের খালি প্যাকেটসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে এসব স্থান থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এমন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী, স্বজন ও স্থানীয়রা।
    ‎হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও কক্ষেও একই চিত্র। রোগীদের ব্যবহৃত বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে অপসারণ না করে অনেক ক্ষেত্রে কক্ষের একপাশে জমিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
    ‎হাসপাতাল চত্বরে ভবনের পাশের ড্রেনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার। ড্রেনে জমে থাকা আবর্জনা ও স্থির পানিতে মশা এবং অন্যান্য পোকামাকড়ের বিস্তার ঘটছে। বিশেষ করে ফেলে রাখা ডাবের খোসায় পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এতে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
    ‎গণশৌচাগারের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। শৌচাগারের ভেতরে ও আশপাশে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে রোগী ও স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
    ‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক রোগী ও স্বজন বলেন, “হাসপাতালে ঢুকেই মনে হয় যেন চিকিৎসাকেন্দ্রে নয়, ময়লার ভাগাড়ে এসেছি। চারদিকে দুর্গন্ধ, অপরিষ্কার ড্রেন, বর্জ্যের স্তূপ এবং ব্যবহার অনুপযোগী শৌচাগারের কারণে চিকিৎসা নিতে এসে নতুন করে অসুস্থ হওয়ার ভয় কাজ করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিক।”
    ‎হাসপাতালে ভর্তি উপজেলার তেঘুরি গ্রামের আব্দুল বারিক ও লাঙ্গলমুড়া গ্রামের ৮৩ বছর বয়সী হযরত আলী অভিযোগ করে বলেন, “আমরা অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। রোগীদের ব্যবহৃত ময়লা নিজেরাই অন্যত্র ফেলে আসতে বলা হচ্ছে। যদি রোগীকেই এসব করতে হয়, তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা কী করছেন?”
    ‎স্থানীয় পরিবেশকর্মী মো. ফয়সাল বিশ্বাস বলেন, “হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা। কিন্তু এখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ড্রেন পরিষ্কারে চরম অব্যবস্থাপনা দেখা যাচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।”
    ‎জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ ও ব্যবস্থাপনা না করলে জীবাণুর বিস্তার এবং সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা জরুরি।
    ‎এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আ. ফ. ম. মো. ওবাইদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
    ‎স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতাল চত্বরের সব ধরনের বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, ড্রেন পরিষ্কার, নিয়মিত মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা, গণশৌচাগার ব্যবহার উপযোগী করা এবং স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। কারণ রোগ সারানোর স্থান কখনোই নতুন রোগের উৎস হতে পারে না।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    July 2026
    S M T W T F S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031