নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস, এক আসামি গ্রেপ্তার; পরিবারের অভিযোগে নিরাপত্তাহীনতার কথা
স্টাফ রিপোর্টার মোঃআফজল হুসাইন
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার লোহাজুরি ইউনিয়নের আলোচিত শফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় ভুক্তভোগী পরিবারের মানববন্ধনের পর তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রেস ব্রিফিং করেছেন কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না, আবার পূর্বশত্রুতার জেরে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকেও হয়রানি করা হবে না।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টায় কটিয়াদী মডেল থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ওসি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় বাবুল মিয়া (৩৫) নামে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
তিনি বলেন, তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করে হয়রানির সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি সবাইকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থেকে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি-ধমকি দেওয়ার বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, সোমবার (৬ জুলাই) লোহাজুরি ইউনিয়নের উত্তর ঝিড়ারপার এলাকায় শফিকুল ইসলাম হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন নিহতের পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসী।
মানববন্ধনে স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নিহতের বোন ও মামলার বাদী বেগম (৪৭) অভিযোগ করেন, তারা যাদের সন্দেহ করছেন এবং যাদের নামে মামলা করতে চেয়েছেন, তাদের নাম এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিকে তাদের সন্দেহভাজন ব্যক্তিরাই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে। তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
নিহতের স্ত্রী রিমা আক্তার অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আমির হোসেন আমির, মজিবুর, বাদশা, বাবুল, হারুন ও সবুজের সঙ্গে তার স্বামীর দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। হত্যাকাণ্ডের আগেও কয়েকবার তাদের বাড়িতে হামলা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পরও তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে তিনি তার দুই সন্তানকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সহস্রাধিক গ্রামবাসী হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত নিরপেক্ষভাবেই এগিয়ে চলছে এবং তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।

