মোঃআলামিন হোসেন তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ):
সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলায় শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে চলেছে। কনকনে ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রতিদিনই সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে প্রতিদিন গড়ে অর্ধশতাধিক ঠান্ডাজনিত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। এদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি। অনেক ক্ষেত্রে শীতজনিত নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত হয়ে রোগীদের ভর্তি করতেও হচ্ছে।
স্থানীয় চিকিৎসকরা জানান, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন। দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষ ও পথচারীরা শীতের প্রকোপে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক বলেন,
“শীতের সময় শিশু ও বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার মতো জটিল রোগ দেখা দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে ঝুঁকি বাড়তে পারে।”
এদিকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে শীতের তীব্রতায় দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল ও দরিদ্র মানুষ। অনেকেরই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় রাতের ঠান্ডা যেন তাদের জন্য নতুন বিপদের নাম হয়ে উঠেছে। ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে দিনমজুরদের কর্মক্ষমতা, যা তাদের জীবিকায়ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চিকিৎসকরা শীতজনিত রোগ থেকে সুরক্ষায় উষ্ণ পোশাক পরিধান, ঠান্ডা পানি পরিহার, শিশু ও বয়স্কদের বাড়তি যত্ন নেওয়া এবং অসুস্থতা দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
শীতের এই কঠিন সময়ে প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

