আব্দুর রাজ্জাক, স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কঠিন সময়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা ত্যাগী নেত্রী অ্যাডভোকেট সানজিদা রহমান সিদ্দিকী বর্তমানে বেশ আলোচনায় রয়েছেন। তিনি নারী সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। দলীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের সংগ্রামী ভূমিকার কারণে তিনি এই পদে উপযুক্ত প্রার্থী।
নেতাকর্মীরা জানান, তাঁর রাজনৈতিক জীবন ত্যাগ, আদর্শ এবং নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনেও তিনি স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রেখেছেন।
সানজিদা রহমান সিদ্দিকীর জন্ম মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার তালুক নগর এলাকায় তাঁর পৈতৃক বাড়িতে। ১৯৯০ সাল থেকে তিনি ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে—মানিকগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সহ-সভাপতি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, জাতীয় মহিলা সংস্থা ও জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সদস্য, পৌর মহিলা দলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে মানিকগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সভাপতি।
তাঁর পিতা সিদ্দিকুর রহমান ছিলেন একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৭০ সালে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ভারতের কল্যাণী শরণার্থী ক্যাম্প পরিচালনার দায়িত্বও পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মানিকগঞ্জের প্রথম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মা সালমা রহমান একজন শিক্ষিকা।
সানজিদা রহমান সিদ্দিকীর স্বামী অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খানও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। তিনি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সেক্রেটারি ছিলেন।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, সংরক্ষিত মহিলা আসনে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা হবে একজন পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেত্রীর যথাযথ মূল্যায়ন। তারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
নেতাকর্মীরা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তাঁর সংগ্রামী জীবন ও আদর্শিক অবস্থান তাঁকে একজন যোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং তাঁকে জাতীয় সংসদে দেখতে চান তারা।
এছাড়া জানা গেছে, তিনি দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের আস্থাভাজন হিসেবেও পরিচিত।

