শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
মেঃ দিলুয়ার হোসেন
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ২নং হবিব পুর ইউনিয়নের ফয়জুল্লাপুর গ্রামে দু’পক্ষের পূর্ব বিরোধের জেরে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের কুড়ালের আঘাতে গুরুতর আহত সাদির হোসেন (৪০) সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফয়জুল্লাপুর গ্রামের খেলু মিয়া ও কাদির মিয়ার পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ মে (শুক্রবার) সন্ধায় ফুটবল খেলা কে কেন্দ্র করে তর্ক বিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।এতে উভয় পক্ষের মধ্যে অন্তত ৩ জন আহত হন ও নিহত ১
আহত দের কে শাল্লা উপজেলা হাসপাতাল সহ অন্যান্য হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়
উক্ত ঘটনার জেরে, এ রাতেই আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে হঠাৎ ফরিদ মিয়া সহ তার লোকজন নিহত সাদির হোসেনের বাবার নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। তখন ঘর থেকে বেরিয়ে সাদির হোসেন এর তীব্র প্রতিবাদ জানালে, ফরিদ মিয়া আকস্মিকভাবে ধারালো কুড়াল দিয়ে সাদির হোসেন এর মাথায় ও শরীরে উপর্যুপরি কোপ দেয়।
কুড়ালের আঘাতে সাদির হোসেন মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
তাৎক্ষণিকভাবে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জরুরি ভিত্তিতে সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন।
পরে সিলেট উসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাদির হোসেন মৃত্যু বরন করেন।
বাবার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে নিহতের কন্যা সন্তান তইয়্যাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “আমার বাবারে যারা মারছে আমি তাদের চিনি। আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই।”
এদিকে স্বামীর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নিহতের স্ত্রী রুজিনা আক্তার (৩৩)। ৩টি নাবালক সন্তান নিয়ে দিশেহারা এই নারী আহাজারি করে বলেন, “আমার ছোট ছোট তিনটা বাচ্চা নিয়ে এখন আমি কোথায় যাব, কী করব? আমি কোনো টাকা-পয়সা বা আপস চাই না। আমি শুধু আমার স্বামী হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের কাছে খুনিদের সর্বোচ্চ আইনি শাস্তি চাই।”
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১লা জুন (সোমবার) শাল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (মামলা নং-০১)। নিহত সাদির হোসেনের স্ত্রী রুজিনা আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
এ বিষয়ে শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকিবুজ্জামান বলেন, “ভিকটিমের স্ত্রীর দায়ের করা এজাহারের ভিত্তিতে থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।
মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশের টিম ইতিমধ্যে মাঠে কাজ করছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।”

