ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
টানা কয়েকদিনের তীব্র দাবদাহ আর ভ্যাপসা গরমে ঠাকুরগাঁও জেলাজুড়ে স্থবিরতা নেমে এসেছে। প্রখর রোদ আর বাতাসের আর্দ্রতা বেশি থাকায় ওষ্ঠাগত হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের প্রাণ। তীব্র এই গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষ। জীবন-জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হলেও গরমে তাদের অবস্থা চরম নাভিশ্বাস।
খেটে খাওয়া মানুষের দুর্ভোগ চরমে
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে,ঠাকুরগাঁও এ কৃষি আফিসের তথ্য মতে তাপমাত্রা আজ প্রায় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস সহ আরো বেশি হতে পারে, তীব্র রোদের কারণে শ্রমজীবী মানুষ দীর্ঘক্ষণ কাজ করতে পারছেন না। একটু কাজ করেই গাছের ছায়ায় বা ঠাণ্ডা স্থানে আশ্রয় নিতে হচ্ছে তাদের। শহরের চৌরাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা এক রিকশাচালক জানান, “যে রোদ উঠছে, রাস্তায় রিকশা চালানো যাচ্ছে না। শরীর পুড়ে যাচ্ছে। যাত্রীও অনেক কম। দিনে যা আয় হচ্ছে, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
একই অবস্থা দিনমজুর ও কৃষি শ্রমিকদের। দুপুরের দিকে মাঠে বা খোলা জায়গায় কাজ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দিন এনে দিন খাওয়া এই মানুষগুলোর দৈনিক আয় কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
রাস্তায় কমেছে মানুষের উপস্থিতি, ফাঁকা শহর
তীব্র গরমের প্রভাব পড়েছে ঠাকুরগাঁও শহরের চেনা ব্যস্ততায়। প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। ফলে সকালের পর থেকেই রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল অনেকটাই কমে যাচ্ছে। দুপুরের দিকে শহরের প্রধান সড়কগুলো অনেকটাই জনশূন্য ও ফাঁকা হয়ে পড়ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গরমের কারণে বাজারে ক্রেতাদের আনাগোনা অনেক কমে গেছে। বিকেলের পর কিছুটা ভিড় হলেও দুপুরের দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ক্রেতাশূন্য থাকছে।
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে,
এদিকে গরমের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা গরমে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ি তীব্র এই গরমে সুস্থ থাকতে যতোটা সম্ভব রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এছাড়া শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি, লেবুর শরবত ও তরল খাবার খাওয়ার এবং বাসি-খোলা খাবার পরিহার করার তাগিদ দিয়েছেন তারা।
স্থানীয় কৃষি অফিসের আবহাওয়া মনিটরিং সেল পর্যবেক্ষণ সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত গরমের এই তীব্রতা কমার সম্ভাবনা কম। ফলে আপাতত এই দুর্ভোগ থেকে সহজে মুক্তি মিলছে না ঠাকুরগাঁওবাসীর।

