ইফতেখার আহমেদ, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি:
শীতের শুরুতেই ঐতিহ্যবাহী খেজুরের রস উপভোগ করতে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হামছাদি গ্রামের ছোট্ট একটি খেজুর বাগানে ভিড় জমাচ্ছেন দূরদূরান্তের রস পিপাসু মানুষ। নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি সত্ত্বেও খেজুরের কাঁচা রসের প্রতি মানুষের আগ্রহ যেন একটুও কমছে না। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা দেখা যাচ্ছে গাছির হাঁড়ি ঘিরে মানুষের জটলা, কেউ রস পান করছেন, কেউ সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছেন, কেউ আবার ছবি তোলছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কতা জারি করা হলেও অধিকাংশ মানুষ তা উপেক্ষা করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপাহ ভাইরাস সাধারণত বাদুড়ের লালায় দূষিত রসের মাধ্যমেই মানবদেহে প্রবেশ করে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে।
তবে গাছি শহিদ মিয়া দাবি করছেন, তিনি পরিষ্কারভাবে রস সংগ্রহ করছেন এবং রাতে গাছ ঢেকে রাখছেন, কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সঠিক নিয়ম মানা হচ্ছে না এবং স্বচোখেই বাগানে বাদুড়ের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে ছিলাম। এক গাছ থেকে অন্য গাছে উড়ে বেড়াচ্ছে বেশ কয়েকটি বাদুড়। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন, যাতে সচেতনতা বাড়ানো যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করছেন, শুধু নিষেধাজ্ঞা দিলেই চলবে না, বরং নিরাপদ ও ফুটানো রসকে উৎসাহিত করতে হবে। নইলে ঐতিহ্য ধরে রাখার আগ্রহে মানুষ অসচেতনভাবে ঝুঁকি নেবে।
নিপাহ ভাইরাসের ভয়াল প্রকোপ ঠেকাতে প্রয়োজন জনসচেতনতা ও বিকল্প নিরাপদ ব্যাবস্থা- নয়তো এই ঐতিহ্যবাহী স্বাদের পেছনে প্রাণঘাতী পরিণতির শঙ্কা থেকেই যাবে।

