কেন্দুয়া প্রতিনিধিঃ
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় কোনপ্রকার সরকারি, বেসরকারি, ব্যাক্তি (গ্রামের বাহীরে) অনুদান ছাড়াই
মানবাধিকার কর্মি ও সংগঠক আবুল কালাম আল আজাদ এর উদ্যোগে গ্রামবাসীর অর্থায়নে
গ্রামের অবহেলিত ছয়টি রাস্তায় প্রায় তিন কিঃমিঃ রাস্তা সংস্কার কাজের উদ্বোধন করা হয় ।
উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের একটি প্রত্যন্ত গ্রাম পাড়াদুর্গাপুর। ৯ শতাধিক মানুষের বসবাস এই গ্রামটিতে শিক্ষা ও চাকুরিজীবীর সংখ্যাও কম নয়। এছাড়াও আশপাশের ৭/৮টি গ্রামের মানুষের চলাচলে জমে উঠে সকাল বাজার। কিন্তু এই গ্রামে যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই নাজুক। বর্ষাকালে এ বাড়ি ও বাড়ি যাতায়াত করাই দূঢ়হ হয়ে পড়ে। গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে গত ১২ জানুয়ারী গ্রামের মানুষ বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেন পাড়াদুর্গাপুর গ্রামের মসজিদ থেকে বলাইশিমুল গ্রাম পর্যন্তসহ গ্রামের ছোট বড় ৬টি রাস্তার প্রায় ৩ কি:মি:।
ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কেটে পুরাতন ছোট রাস্তাগুলোকে বৃদ্ধি করে অটোরিক্সা চরাচলের উপযোগী করণ কার্যক্রম শুরু করবেন। এতে গ্রামবাসীর ৫/৬ লাখ টাকা ব্যায় হবে বলে তারা ধারণা করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তারা তহবিল গগঠন করে বুধবার (১৪জানুয়ারি) দুপুরে রাস্তার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এসময় বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী শাহাদত হোসেনসহ গ্রামবাসী ও এলাকার গণ্যমান্য মানুষজন উপস্থিত ছিলেন।
এব্যাপারে পাড়াদুর্গাপুর গ্রামের,প্রবীণ ব্যাক্তি ও সাবেক ইউপি সদস্য আ: ছোবহান,এখলাছ উদ্দিন,আব্দুর রহমান,মুমিনুল হক,তাওহিদুল ইসলাম,ইঞ্জিল মিয়া,আব্দুল আজিজসহ গ্রামবাসী জানান, আমরা খুবই অবহেলিত,এই গ্রামে উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগেনি। চলাচলে তেমন কোন রাস্তাঘাট না থাকায় শিক্ষার্থীদদের পড়া লেখায় বিঘ্ন ঘটছে, কৃষিকাজের ন্যায্য মূল্য পাই না,কেউ অসুস্থ্য হলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ থেকে উত্তোরণের জন্য আমাদের গ্রামের কৃতি সন্তান, মানবাধিকার কর্মি ও সংগঠক আবুল কালাম আল আজাদ আমাদের ডেকে নিয়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাস্তা নিজেদের অর্থায়নে মাটি কেটে মেরামত করার উদ্যোগ নেন। আমরা গ্রাম থেকে হাড়ি (চাদা) তুলে খরচ নির্বাহ করছি। আজ সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে দেখে খুবই আনন্দিত আমরা।
আবুল কালাম আল আজাদ জানান,আমাদের পাড়াদুর্গাপুর গ্রামটি অনেকটাই পশ্চাদপদ। যাতায়াতের অসুবিধায় এখানের মানুষ সারা বছরই কষ্ট করেন। বর্ষাকালের অবস্থা অবর্ণনীয়। তাই নিজেরাই উদ্যোগ নিলাম ৫/৬ টি রাস্তার ৩ কিমি মাটির কাজ করতে।
তিনি আরও জানান,এই কাজটির জন্য ১১টি রিং ও ৩টি ইউড্রেইন লাগবে সে গুলো যেনো ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পেতে পারি সেই দাবী রাখছি ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক শাহাদত হোসেনের কাছে।
এব্যাপারে বলাইশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলের উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহাদত হোসোন বলেন,রাস্তার জন্য পাড়াদুর্গাপুর গ্রামবাসীর এই উদ্যোগ নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। আমি তাদের মহতি উদ্যোগের সাথে যুক্ত হতে পেরে ভাল লাগছে। রিং ও ইউড্রেনেের জন্য গ্রামবাসীর এই দাবী খুবই সামান্য। আমি সর্ব্বোচ্ছ চেষ্টা করবো তাদের পাশে থেকে সহায়তা করতে।

