কামরুল হাসান: (নাগেশ্বরী উপজেলা প্রতিনিধি )
নাগেশ্বরী উপজেলায় মাত্র এক মাসের ব্যবধানে তিনটি ক্লিনিকে তিনজন প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় অত্যন্ত উদ্বিগ্ন বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা সেবা গ্রহী রোগী ও তাদের স্বজনরা।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই ঘটনাগুলোয় ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসা সেবার মান এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:
১. হলিকেয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার: এখানে ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর অভিযোগ ওঠে। অপারেশন থিয়েটারে অ্যানেস্থেসিয়া বা অস্ত্রোপাচারের সময় জটিলতা তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়।
২. জনতা ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক মায়ের মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ ছিল, অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ ছাড়াই সেখানে অপারেশন পরিচালনা করা হয়েছিল।
৩. সেন্ট্রাল ক্লিনিক: এখানেও প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে এলাকায় বেশ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল।
মূল কারণ ও অভিযোগসমূহ
স্থানীয় প্রশাসন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে মূলত কয়েকটি প্রধান সমস্যার কথা উঠে এসেছে:
অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব: অনেক সময় কল-অন ডাক্তার (যাদের বাইরে থেকে ডেকে আনা হয়) দিয়ে তাড়াহুড়ো করে অপারেশন করানো হয়।
অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ না থাকা: অনেক ক্ষেত্রে টেকনিশিয়ান বা অদক্ষ কাউকে দিয়ে অজ্ঞান করার কাজ চালানো হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
গর্ভবতী থাকা অবস্থায় মেয়েদের স্বাস্থ্যগত নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। এই জটিলতা গুলো নিরসন না করে সিজার করানো হলে প্রসূতি মায়েরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়েন।
অবকাঠামোগত ঘাটতি: জরুরি মুহূর্তে রোগীকে অক্সিজেন বা লাইফ সাপোর্ট দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ক্লিনিক গুলোতে নেই।
বাণিজ্যিক মানসিকতা: সেবার চেয়ে মুনাফাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া এবং দালালের মাধ্যমে রোগী ভর্তি করা। সেবা গ্রহীতা ও স্থানীয় মানুষের পরামর্শ হলো, এই মৃত্যুগুলোর সঠিক তদন্ত করে দোষী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সেবার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

