এ,টি,এম,হুমায়ুন কাদির
নান্দাইল ( ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বারোঘরিয়া নতুন বাজারে জুয়ার আসরে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পুলিশ হেফাজত থেকে ৫ আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় তাদের পুনরায় আটক করা হয়। সব মিলিয়ে বিভিন্ন মামলায় ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করে সোমবার (১১ মে) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার (১০ মে) রাত প্রায় ১১টার দিকে নান্দাইল মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পলাশ আহমেদের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বারোঘরিয়া নতুন বাজারের একটি চায়ের দোকানে অভিযান চালায়। সেখানে লুডু খেলার মাধ্যমে জুয়ার আসর বসানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানকালে ১৩ জনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। আটকের একপর্যায়ে জুয়াড়ি ও তাদের সহযোগীরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় ৫ আসামিকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করে পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সহযোগিতায় কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর হ্যান্ডকাফসহ ৫ আসামি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। জুয়া আইনে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—আমিন, কিরণ, সাইদুল ইসলাম, মোবারক মিয়া, উজ্জ্বল মিয়া, আলম মিয়া, জিয়া, রমজান, মিলন মিয়া, রুস্তম আলী, তাইজুল ইসলাম, হেভেন মিয়া ওরফে সাগর এবং পারভেজ ভান্ডারী। এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নজিবুল্লাহ লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় জোয়ালভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নৈশ্যপ্রহরী জাহাঙ্গীর মিয়া, আসাদুল হক ও শামীমকে এবং ৫৪ ধারায় আরমান ওরফে আলমাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “জুয়াবিরোধী অভিযানে গিয়ে পুলিশ বাধার মুখে পড়লেও আসামিদের পুনরায় আটক করা সম্ভব হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

