মো ওমর খান সানি, তাড়াইল উপজেলা প্রতিনিধি।
পেশাগত মর্যাদা রক্ষা ও ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিগণের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সারাদেশের মতো মানববন্ধন করেছেন কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া)।সোমবার (১১ মে) দুপুর ১২ টায় তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়কে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে সোমবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালাল বিরোধী অভিযান চালায় এনএসআই ও পুলিশ। সেই অভিযানে বহু দালালদের সাথে আটক করা হয় ১৯ জন ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেনটেটিভকে। যারা হাসপাতাল ভিজিটের জন্য বেধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে হাসপাতাল চত্তরে অবস্থান করছিলেন। পরবর্তীতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাদের যাচাই বাছাই করে ছেড়ে দেন।‘অধিকার আদায়ে আমরা সবাই একসাথে’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত মানববন্ধনে ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) তাড়াইল উপজেলার সাধারণ সম্পাদক ও ল্যাব এইড কোম্পানির প্রতিনিধি আল আমিন রুবেল বলেন, আজকে আমাদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিতে এই মানববন্ধন। মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভরা এদেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতের এক অপরিহার্য এবং উচ্চশিক্ষিত অংশ। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, তাদের পেশাগত মর্যাদা নিয়ে বারবার ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কাজেই যেই সেক্টরটি বাংলাদেশের আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে, সেই ফার্মা সেক্টরে সুনির্দিষ্ট একটি নীতিমালা তৈরি করে দিতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। যাতে কাজের নিরাপদ পরিবেশ সুনিশ্চিত এবং আমাদের মর্যাদা নিশ্চিত হয়। এই সেক্টরকে বাঁচাতে হলে এই নীতিমালা খুবই জরুরি।ফার্মাসিউটিক্যাল রিপ্রেজেন্টেটিভস অ্যাসোসিয়েশন (ফারিয়া) তাড়াইল উপজেলার
সভাপতি ও মেডিকন কোম্পানির প্রতিনিধি মারুফ আহম্মেদ আকিক বলেন, চিকিৎসা প্রতিনিধিরা কোনোভাবেই দালাল নন, বরং তারা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য চিকিৎসকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক দক্ষ কারিগর। তাই এই পেশার রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি। ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সেবাদানকারী এই মানুষগুলোর চাকরির নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম মর্যাদা আজ সংকটের মুখে। অনতিবিলম্বে হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাজ করার পথে সকল বাধা দূর করার আহ্বান জানাচ্ছি।অন্যান্য ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিগণ তাদের বক্তব্যে বলেন, আমরা দেশের স্বাস্থ্যখাতে কাজ করি। দেশে উৎপাদিত ঔষধ সম্পর্কে, সেই ঔষধু সেবনের বিধিনিষেধ চিকিৎসকদের অবগত করি। হাসপাতালে কোনো অনিয়ম দূর্নীতির সাথে কোনোভাবেই আমাদের কেউ সম্পৃক্ত নয়। তবুও আমাদের শুনতে হয়, আমরা দালাল। হাসপাতালে কোন রোগীর সাথে, কোন চিকিৎসকের সাথে আমরা প্রতারণা করেছি, এটি কেউ বলতে পারবে না।

