গাজীপুর প্রতিনিধি :
রাষ্ট্রীয় জীবনে আল্লাহর বিধান প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে ফেসবুকে পোস্টের জের ধরে গাজীপুরের শ্রীপুরের মাওনায় হেযবুত তওহীদের এক সদস্যের উপর হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার (১২ মে ) দুপুর ৩টায় গাজীপুর হেযবুত তওহীদ গাজীপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।
হেযবুত তওহীদের গাজীপুর জেলা সভাপতি আবু রায়হানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক মোখলেছুর রহমান সুমন। তিনি সাংবাদিকদের সামনে ঘটনার আদ্যোপান্ত তুলে ধরে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।
তিনি জানান, শ্রীপুর উপজেলা হেযবুত তওহীদের সদস্য সামসুল হক মিলন একজন ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী। মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় তিনি নিজের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি গত রবিবার রাতে ফেসবুকে একটি ফটোকার্ড আপলোড করেন। তাতে লিখেন- “হেযবুত তওহীদ চায় আল্লাহর বিধান (কোরআন) দিয়ে সমাজ-রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। আমাদের কথা একটাই রাষ্ট্র সবার, হুকুম চলবে আল্লাহর। আমি গর্বিত, আমি হেযবুত তওহীদ।”
মোখলেছুর রহমান সুমন আরও বলেন, পরদিন সকালে সামসুল হক মিলন মাওনা চৌরাস্তায় নিজের কর্মস্থলে গেলে এই পোস্টের জের ধরে রিয়াদ খান নামের লেবাসধারী এক ব্যক্তির নেতৃত্বে তার ওপর চড়াও হয় স্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী। তারা দাবি করে, মিলনকে হেযবুত তওহীদ ছাড়তে হবে। কিন্তু মিলন তাতে রাজি না হওয়ায় তারা তাকে হেনস্তা করে নিজের কর্মস্থল থেকে বের করে দেয়।
তিনি বলেন, খানিক বাদে তারা আবার তাকে ডেকে নিয়ে হেনস্থা শুরু করে। এসময় স্থানীয় পুকুরপাড় জামে মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান সরকার ওরফে সুফী হুজুর দাবি করে, মিলনকে তওবা করে হেযবুত তওহীদ থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কিন্তু মিলন তাতে রাজি না হওয়ায় কথিত সুফি হুজুর একটি বানোয়াট হ্যান্ডবিলের বক্তব্য তুলে ধরে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে উপস্থিত লোকজনকে উস্কানি দেয়। এক পর্যায়ে তার নেতৃত্বে ১২-১৫ জনের একটি দল মিলনের উপর চড়াও হয় এবং তাকে বেধরক মারধর শুরু করে। এক পর্যায়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
মোখলেছুর রহমান সুমন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিগত কয়েক মাস ধরে কাপাসিয়া সহ গাজীপুরের বেশ কিছু এলাকায় একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছে। তারা মিথ্যা হ্যান্ডবিল বিতরণ, মাইকিং, ওয়াজের মঞ্চ ও মসজিদের মিম্বার ব্যবহার করে হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে একটি মব সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারই প্রতিফলন মাওনার এই ঘটনা।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হেযবুত তওহীদ বারবার এ ব্যাপারে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেও প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। যে কারণে ঘটনা ক্রমেই সহিংসতার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
মোখলেছুর রহমান সুমন জানান, মাওনার উক্ত ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে গুজব রটনা করে মব সৃষ্টির যে অপচেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, ভুক্তভোগী সামসুল হক মিলন, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম, গাজীপুর জেলা হেযবুত তওহীদের সভাপতি আলী আকবর উজ্জ্বল, গাজীপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক শামীমুল হাসান, কাপাসিয়া উপজেলা সভাপতি শাহজাহান প্রধান প্রমুখ।

