একই সংসারকে ঘিরে দুই ভিন্ন দাবির জটিলতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক গ্যারিসন লুইটেলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলোচনার নতুন কেন্দ্রবিন্দু। ২০১৮ সালে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফারহানা করিমকে বিয়ে করে যুক্তরাষ্ট্রে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন তিনি। ওই বছরই তাদের ঘরে জন্ম নেয় একটি সন্তান।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে দ্বিতীয়বার গর্ভবতী হলে ফারহানা দেশে আসেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর কথা জানালেও দেশে ফেরার পর ধীরে ধীরে লুইটেলের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
লুইটেলের অভিযোগ, তিনি নিয়মিত সন্তানের খরচ বহন করলেও আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে একাধিকবার চেষ্টা করেও স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে অক্টোবর মাসে তিনি নিজেই বাংলাদেশে আসেন।
বাংলাদেশে এসে তিনি জানতে পারেন, ফারহানা এক কানাডিয়ান নাগরিকের সঙ্গে বসবাস করছেন এবং তাকে বিয়ে করার দাবি করছেন। একই সময়ে তার আরেকটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়েছে বলেও জানতে পারেন লুইটেল।
তার অভিযোগ, তাকে যে নথিপত্র দেখানো হয়েছে, সেখানে দ্বিতীয় সন্তানকে ওই কানাডিয়ান নাগরিকের সন্তান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বিয়ের কাগজপত্রও প্রদর্শন করা হয়, যদিও তার সঙ্গে আইনগত বিচ্ছেদ তখনও সম্পন্ন হয়নি।
এছাড়া বাংলাদেশ থেকে তার কাছে পূর্বে একটি বিচ্ছেদের নোটিশ পাঠানো হয়েছিল বলেও জানান তিনি, যা তাকে বিস্মিত করেছে।
এ ঘটনার পর লুইটেল বিচ্ছেদ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এবং সন্তানের অভিভাবকত্ব চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। মামলাটি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ালেও এখনো কোনো চূড়ান্ত ফল মেলেনি।
বর্তমানে লুইটেল ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং আদালত থেকে আদালতে ঘুরছেন। তার একমাত্র দাবি—নিজ সন্তানদের অন্তত একবার দেখার সুযোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘটনাটি সত্য হলে এর নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়তে পারে শিশুদের ওপর। তাই বিষয়টির দ্রুত, সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

