মোঃনুরুন্নবী পাবনা প্রতিনিধিঃ
জনতা ব্যাংক বনগ্রাম শাখার গ্রাহকদের সাড়ে ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার হেমায়েত করিমকে গ্রেফতার করেছে আতাইকুলা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদুর রহমান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
ব্যাংকের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হেমায়েত করিম দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে গ্রাহকদের টাকা ব্যাংক হিসাবে জমা না করে নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে আসছিলেন। বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে গত ১৫ অক্টোবর (বুধবার), যখন এক নারী গ্রাহক তার একাউন্ট থেকে টাকা তুলতে গিয়ে দেখতে পান, সেখানে কোনো অর্থ নেই। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি জনতা ব্যাংকের পাবনা শাখাকে অবহিত করলে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পায়।
পরে পাবনা শাখা কর্তৃক বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় হেমায়েত করিমকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এবং বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শাখা ব্যবস্থাপক ফরিদুর রহমান।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শতাধিক গ্রাহক ব্যাংকে ভিড় করে নিজেদের একাউন্ট পরীক্ষা করতে শুরু করেন। এসময় অনেকেই তাদের জমাকৃত অর্থ না পাওয়ার অভিযোগ করেন। ফলে ব্যাংক চত্বরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে জনতা ব্যাংকের পাবনা শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার মঞ্জুরুল হক বলেন, “হেমায়েত করিমের বিরুদ্ধে আমরা তদন্তে এসেছি। ইতোমধ্যে তাকে নওগাঁ শাখায় বদলি করা হয়েছে।”
আতাইকুলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সৈয়দ আলমগীর হোসেন জানান, “জনতা ব্যাংক বনগ্রাম শাখার গ্রাহকদের প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় হেমায়েত করিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাতের এমন ঘটনায় এলাকায় চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

