রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় মাত্র এক বছরে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক আধুনিকায়ন ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন হয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. হুমায়ুন কবির।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ২৬ নভেম্বর এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বিসিএস প্রশাসন একাডেমি, শাহবাগ, ঢাকায় পদায়ন করা হয়।
বিসিএস ৩৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকেই লাজুক অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে গুরুত্ব দেন। মাটির রাস্তার পরিবর্তে ইটের কাজের মাধ্যমে ইউনিয়ন ও পৌরসভার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে করে তুলেছেন টেকসই ও মজবুত ব্যবহারবান্ধব।
তার নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ চত্বরেও আসে পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। কনফারেন্স রুম আধুনিকায়ন, ইউএনও অফিস রুম সংস্কার, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পুনর্নির্মাণ, উন্মুক্ত লাইব্রেরি ‘নৈঃশব্দ মহাকাল’ সংস্কার, অফিসারস ক্লাব সংস্কার, জনসাধারণের গাড়ি রাখার জন্য গ্যারেজ নির্মাণ, পরিষদের বাউন্ডারি ওয়াল রংকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধন, পরিষদের অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করেন তিনি।
এ ছাড়াও পরিত্যক্ত পুকুর সংস্কার, পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি, পুরাতন মসজিদে চলাচলের পথ উন্নয়ন, ইউএনও বাসভবন আধুনিকায়ন এবং পুরো উপজেলা পরিষদকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
শুধু উন্নয়ন নয়—মানবিকতার ক্ষেত্রেও রেখেছেন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত আর্থিক সহায়তা প্রদান করে তিনি হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষের কাছের এক কিংবদন্তি।
উপজেলার একাধিক শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের অনুভূতি— “ইউএনও হুমায়ুন কবিরের কারণে রায়গঞ্জের ভিতরকার রাস্তাগুলোতে চমকপ্রদ পরিবর্তন এসেছে। তিনি না এলে হয়তো এ অগ্রগতি এত দ্রুত হতো না।”
সচেতন মহলের একাংশ বলেন, “মানুষের দরজায় সেবা পৌঁছে দেওয়া—এটাই ছিল তার মূল লক্ষ্য। যে কোন সমস্যায় সাধারণ মানুষ সরাসরি তার কাছে যেতে পারত, তার দরজা ছিল সেবার জন্য উন্মুক্ত।”
দায়িত্ব পালন শেষে বিদায়ের মুহূর্তে রায়গঞ্জবাসীর হৃদয়ে কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও সম্মানের গভীর ছাপ রেখে গেলেন ইউএনও হুমায়ুন কবির। তার নেয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো যেন ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়—এ প্রত্যাশাই করছে উপজেলার মানুষ।

