মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মোঃ সুমন আহম্মেদ:
মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও সেবার নিম্নমান নিয়ে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ বাহাউদ্দীনের দায়িত্বকালকে কেন্দ্র করে এসব অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে বলে সরজমিনে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, পূর্ববর্তী সরকার আমল থেকেই তিনি ধারাবাহিকভাবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার মেয়াদে হাসপাতালের মূল্যবান কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও মালামাল হারিয়ে যাওয়া, অচল করে ফেলা বা বিক্রি হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা বারবার সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ পায়। পাশাপাশি বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশ করে ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের সংবাদ ও ইতিপূর্বে প্রকাশিত হয়েছে ।
হাসপাতালে প্রবেশ করতেই প্রধান ফটকের ডান পাশে বিড়ি–সিগারেটের দোকান চোখে পড়ে। তার পাশের পাবলিক টয়লেটটি ব্যবহারের অনুপযোগী অবস্থায় গুদাম হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ভেতরেও একাধিক টয়লেট দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় মশা–মাছির উপদ্রব ও দুর্গন্ধে পরিবেশ নোংরা হয়ে পড়েছে, যা সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ।
এছাড়াও রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে নার্স এবং কিছু স্টাফের রূঢ় আচরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে, যা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
সরকার প্রতিবছর এ হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার ওষুধ বরাদ্দ দিলেও অনেক সাধারণ রোগী সরকারি ওষুধের সুবিধা পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের গুদাম ও ওষুধ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতিই এর জন্য দায়ী।
হাসপাতাল চত্বর ও আশপাশের পরিবেশও নোংরা-অপরিচ্ছন্ন থাকায় রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নাগরিক, রোগী ও সেবা প্রার্থীরা জানান, হাসপাতালে বছরে বিপুল পরিমাণ সরকারি সুবিধা বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সেগুলো জনগণের হাতে পৌঁছায় না। তারা দ্রুত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে হাসপাতালের অনিয়ম, দুর্নীতি ও পরিবেশগত সমস্যার সমাধান করার দাবি জানান।
এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ বাহাউদ্দীন জানান, হসপিটালে নিচের টয়লেট যা কর্মীদের জন্য বানানো হলেও এখন তা বন্ধ করা হয়েছে এবং দক্ষিণ কর্নারের নতুন ৮টি টয়লেটের বিষয়ে পি.ডব্লিউ.ডি ও পৌরসভা কর্তৃক তৈরি এ বিষয়ে তারাই ভালো

