ঢাকা, বিশেষ প্রতিবেদক—
স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে আপোষহীন নেতৃত্বের প্রতীক, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নামাজে জানাজা আজ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, বুধবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শীতের বিকেলে জনসমুদ্রের নিঃশব্দ কান্না আর মোনাজাতের ধ্বনিতে ভারী হয়ে ওঠে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা, বুদ্ধিজীবী ও সর্বস্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে শেষবারের মতো প্রিয় নেত্রীকে বিদায় জানান। লাখো মানুষের চোখে ছিল অশ্রু, হৃদয়ে ছিল শোক আর শ্রদ্ধা।
নামাজে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে দাফন করা হবে তাঁর স্বামী, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানর কবরের ঠিক পাশে। এই দাফনের মধ্য দিয়ে ইতিহাসের এক গভীর অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে—যেখানে পাশাপাশি চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন বাংলাদেশের দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বহুদলীয় রাজনীতির এক দৃঢ় কণ্ঠস্বর। কারাবরণ, অসুস্থতা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি কখনো আপস করেননি আদর্শের প্রশ্নে। তাঁর জীবন ছিল সংগ্রামের, তাঁর রাজনীতি ছিল বিশ্বাসের, আর তাঁর নেতৃত্ব ছিল সাহসের প্রতিচ্ছবি।
আজ তাঁর বিদায়ে শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নয়, শোকাহত একটি জাতির ইতিহাস ভারী হয়ে উঠেছে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া চলে গেলেও তাঁর আদর্শ, ত্যাগ ও সংগ্রামের স্মৃতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

