মোঃ আবুসুফিয়ান তালুকদার সিরাজগঞ্জ।
০৬ জানুয়ারি ২০২৬, সময় : ০৩:৩১ পিএম
সিরাজগঞ্জ শহরের দরগা রোডে নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেন, ক্ষমতার অপব্যবহার ও পুলিশ বাহিনীর প্রভাব খাটানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—এসপি অফিসের স্টেনোটাইপিস্ট খাদেমুল ইসলাম এবং হিসাব রক্ষক হেদায়েত উল্লাহ গং মাত্র ৬ তলার অনুমোদন নিয়ে অবৈধভাবে ৮ তলা এলিট টাওয়ার ভবন নির্মাণ করেছেন। পৌরসভার সেটব্যাক রুলসসহ গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বিধি মানা হয়নি। ফলে ভবনটির আশপাশের বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চরম আতঙ্কে জীবনযাপন করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ভবনটি পাশের ঘরবাড়ির ওপর ঢলে পড়ে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটতে পারে।
বাংলাদেশে প্রায়ই দেখা যায়—দুর্ঘটনার পরদিন পত্রিকায় বড় শিরোনাম হয়, “নকশা বহির্ভূত ভবন ধসে হতাহতের ঘটনা।” পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসে বলেন, “নির্মাণে আইন ভঙ্গ হয়েছে, তদন্ত চলছে, ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” ঠিক একই আশঙ্কা এখন শহর দরগা রোডে এলিট টাওয়ারকে ঘিরে দেখা দিচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ—দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, কিন্তু এখানে উল্টোটা হচ্ছে।
এলিট টাওয়ারের অনিয়ম ও অবৈধ নির্মাণের বিষয়ে পৌর মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও ১৭-৯-২০২৪,০৮-০৪-২০২৫ ইং বরাবর ও ২৮-১২-২০২৫ তারিখে ইমেইলে পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। এরও আগে পৌর নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ আনিসুর রহমান এপ্রিল ২০২২-এ সরেজমিন তদন্ত করে একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন, যেখানে নকশা লঙ্ঘন ও নিরাপত্তা বিধি ভঙ্গের বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। পরবর্তীতে ৯ জুলাই ২০২৪ তারিখে পৌর মেয়র ভবনটির ৮ তলা অবৈধ অংশ অপসারণের নির্দেশ দেন, কিন্তু আজও নির্দেশ কার্যকর হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি—একটি ভবন মালিকের প্রভাব ও অনিয়মের কারণে পুরো মহল্লার শত শত মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জননিরাপত্তার স্বার্থে এলিট টাওয়ারের অবৈধ নির্মাণ, ঘুষ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়টি অবিলম্বে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি আহ্বান জানানো হচ্ছে।

