আরিফ মাহমুদ, ইন্টার্ন ফিজিওথেরাপিস্ট সিআরপি:-
রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন:
“আবু যর আকাশের নিচে ও পৃথিবীর ওপর সবচেয়ে সত্যভাষী মানুষ।”
(তিরমিযী)
আবু যর (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন অত্যন্ত ব্যতিক্রমীভাবে।
কোনো দাওয়াতী কাফেলা নয়, কোনো বাহ্যিক চাপ নয়—
বরং সত্যের অনুসন্ধান তাঁকে মরুভূমি থেকে মক্কায় টেনে এনেছিল।
তিনি প্রথম দিকের সাহাবীদের একজন।
ইসলাম গ্রহণের পর কা‘বার প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে শাহাদাত ঘোষণা করেন—
যখন অন্যরা নির্যাতনের ভয়ে গোপনে ঈমান রাখছিলেন।
এই সাহস ছিল ঈমানের গভীর টানের ফল।
রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল নিখাদ ভালোবাসা ও আস্থার।
তিনি নবীজির কথা অক্ষরে অক্ষরে মানতেন।
একদিন রাসূল ﷺ তাঁকে বলেছিলেন:
“হে আবু যর! তুমি একা চলবে, একা মরবে, একা পুনরুত্থিত হবে।”
এই কথা তিনি আজীবন মনে রেখেছিলেন—এবং তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছিল।
——————————————————-
তিনি রাষ্ট্রীয় পদ গ্রহণ করেননি, সম্পদ জমাননি।
যে কোনো ধরনের বিলাসিতা ও জমাকরণকে তিনি অপছন্দ করতেন।
তিনি বলতেন: “যে সম্পদ প্রয়োজনের অতিরিক্ত, তা আগুনের মতো।”
এই আদর্শের কারণেই অনেক সময় তিনি শাসকদের অপছন্দের পাত্র হন এবং শেষ জীবনে মদীনা থেকে দূরে, রাবযা নামক নির্জন মরুভূমিতে নির্বাসিত অবস্থায় জীবন কাটান।
আবু যর (রাঃ)-এর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল—
আল্লাহ যেন সন্তুষ্ট হন।
তিনি জানতেন—দুনিয়ার প্রশংসা ক্ষণস্থায়ী,কিন্তু আল্লাহর সন্তুষ্টি চিরস্থায়ী।
তাই তিনি জনপ্রিয়তা চাননি, অনুসারী চাননি, সংখ্যা চাননি—
চেয়েছেন শুধু আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্যতা।
ইন্তেকাল ও জানাজার দৃশ্য:
এক নীরব বিপ্লব হিজরি ৩২ সনে, নির্জন মরুভূমিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। স্ত্রী ও সন্তান ছাড়া কেউ পাশে ছিল না।
তিনি মৃত্যুর আগে স্ত্রীকে বলেছিলেন—
.
“রাসূল ﷺ বলেছেন, একদল মুমিন আমার জানাজা পড়বে।”
কিছু সময় পর হজ কাফেলার কয়েকজন সাহাবী সেখানে পৌঁছান।
তাঁরা চোখের পানি ফেলেন,
আর তখনই যেন মরুভূমির নীরবতা কেঁপে ওঠে।
কেউ ফিসফিস করে বলে—
“এ তো সেই আবু যর…
যাকে রাসূল ﷺ ভালোবাসতেন।”
কেউ আর কথা বলতে পারে না।
কেউ কাঁদে, কেউ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।
কারণ তারা বুঝে যায়—
এই নিঃশব্দ জানাজা কোনো সাধারণ মানুষের নয়।
এটা এক এমন মানুষের বিদায়—
যার মৃ্ত্যুতে আসমান নীরব ছিল
থেমে গিয়েছিল দুনিয়ার ইতিহাস,
শুরু হয়েছিল আখিরাতের মর্যাদা।
হে আল্লাহ,
আমাদের জীবন যদি মানুষের চোখে ছোটও হয়—
আমাদের মৃত্যুকে তুমি তোমার ওয়াদার সাক্ষী বানাও।
আমাদের জানাজা যদি নীরবও হয়—
তুমি যেন সন্তুষ্ট থাকো।

