আশুলিয়া প্রতিনিধি, শরিফ মিয়া
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার জিরানী বাজারে অবস্থিত বাংলাদেশ–কোরিয়া মৈত্রী সরকারি হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটে জর্জরিত। সর্বশেষ ৬ মাসেরও বেশি সময় ধরে হাসপাতালটির প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ১ বছরের বেশি সময় ধরে অচল এক্সরে বিভাগ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তীব্র চিকিৎসক ও ওষুধ সংকট। ফলে প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসা হাজারো রোগী কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়ে এসব চিত্র উঠে আসে। দেখা যায়, ৩০ শয্যার এই সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে কোনো রোগী ভর্তি নেই। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকায় ইনডোর সেবাও কার্যত বন্ধ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩০ শয্যার এই হাসপাতালে ১জন সহকারী পরিচালক থাকলেও ৪জন জুনিয়র কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ১জন। আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার একজন, সহকারী সার্জন থাকার কথা ২জন হলেও আছেন ১জন। ডেন্টাল চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও পদটি শূন্য রয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় বহির্বিভাগ ও জরুরি সেবায় চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ১৯৯৯ সালের ১১ আগস্ট বাংলাদেশ–কোরিয়া মৈত্রী হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। আশুলিয়ার শিমুলিয়া, ধামসোনা, ইয়ারপুর ইউনিয়নসহ পাশের ধামরাই ও কালিয়াকৈর উপজেলা থেকে শত শত মানুষ মাত্র ৫ টাকার টিকিটে চিকিৎসা নিতেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ওষুধও বিনামূল্যে সরবরাহ করা হতো।কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালটিতে ওষুধ সংকট, চিকিৎসক সংকট এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ থাকায় রোগীরা মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে বাইরে গিয়ে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেশি টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে একদিকে আর্থিক ক্ষতি, অন্যদিকে সময় ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা।
চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী অভিযোগ করে বলেন, “এত বড় সরকারি হাসপাতাল থাকলেও কোনো পরীক্ষা করা যায় না। বাইরে গেলে দালালদের খপ্পরে পড়তে হয়। নামমাত্র ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেশি টাকা গুনতে হয়।”হাসপাতালের আশপাশে গড়ে ওঠা কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালচক্র রোগীদের নানা প্রলোভনে বাইরে নিয়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
হাসপাতালের টিকিট মাস্টার মোর্শেদ আলম জানান, হাসপাতালের ছাপানো টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে প্যাডে সিল মেরে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে।
স্টোর কিপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলী আকবর মিয়া বলেন, “হাসপাতালটি দীর্ঘদিন একটি প্রকল্পের আওতায় ছিল। এখন রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এখনো অর্থনৈতিক কোড না হওয়ায় কেনাকাটা সম্ভব হচ্ছে না। টেকনোলজিস্ট ও রিএজেন্ট না থাকায় এক্সরে ও প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ রয়েছে।”
এ বিষয়ে হাসপাতালের প্রশাসনিক সহকারী অধ্যাপক ডা. মাজহারুল আলম বলেন, “এই এলাকায় শিল্পকারখানার অনেক শ্রমিক চিকিৎসা নিতে আসে। বাজেট ও লোকবল সংকটের কারণে ইনডোর, মেডিসিনসহ পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতালটি প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের কারণে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। আশা করছি দ্রুত বাজেট ও জনবল সংকট কাটিয়ে পূর্ণাঙ্গ সেবা চালু করা যাবে।”
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, এক্সরে ও প্যাথলজি বিভাগ চালু এবং দালালচক্র নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি আরও বাড়বে।

