রিপোর্টার: আরিফ আজাদ
মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় পাঁচ বছরের শিশুকন্যাসহ এক নারীকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতরা হলেন আমেনা শেখ (৩৬) ও তার মেয়ে মরিয়ম আক্তার (৫)। হত্যাকাণ্ডের পর থেকে নিহতের স্বামী মো. মিজান পলাতক রয়েছেন। একই সঙ্গে একই বাড়ির পাশের কক্ষে বসবাসকারী এক ভাড়াটিয়া ঘটনার পর থেকে এলাকায় অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পুলিশ সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকালে সিরাজদিখান উপজেলার দক্ষিণ রাজানগর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মা ও শিশুর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে আমেনা শেখের গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার শিশুকন্যাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
নিহত আমেনা শেখ ওই ভাড়া বাসাতেই স্বামী ও সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। তার স্বামী মো. মিজান পেশায় সুমেলি (সোমেলে) গাছ কাটার কাজ করতেন। ঘটনার পর থেকে তার অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিহতদের বসবাসরত ঘরের সঙ্গে একই বাড়ির পাশের কক্ষে থাকা ভাড়াটিয়া মো. আলী নামের এক ব্যক্তি ঘটনার পর থেকে এলাকায় দেখা যাচ্ছেন না। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাস্থলের বাড়ির মালিক মো. নুরুজ্জামান (৬৫) জানান, সকালে ঘর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হলে তিনি আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
সিরাজদিখান থানা পুলিশ জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করা হয়নি। পলাতক ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্তে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

