গাজীপুর প্রতিনিধি:
কারখানায় ভোটের চারদিনের ছুটিতে গাজীপুরে মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদের মতো যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে যাত্রীরা মহাসড়কে বিক্ষোভ ও অবরোধ তৈরি করেছে। মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন সৃষ্টি হয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মক্ষম মানুষেরা।
মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় দেখা গেছে, ভাড়া বৃদ্ধির কারণে যানবাহন থামিয়ে যাত্রীরা অবরোধ বিক্ষোভ করছে।
ময়মনসিংহগামী যাত্রী আব্দুল মতিন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় বাসে উঠার অপেক্ষা আছি। কিন্তু পরিবহন শ্রমিকরা দেড়শ টাকার ভাড়া ৮০০ টাকা চাচ্ছে যার কারণে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে তারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে।
একই অভিযোগ করেছেন সেখানে অবস্থানরত নবীনগরগামী যাত্রী মোঃ সোলায়মান। তিনি বলেন, তিনি স্থানীয় স্টারলাইট সোয়য়েটার কারখানার শ্রমিক। ভোটের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ যাওয়ার জন্য স্ত্রী সন্তান নিয়ে চৌরাস্তায় বাঁচার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু পরিবহনের শ্রমিকরা ৭০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা চাচ্ছে। এ অবস্থা দেখার জন্য কেউ নেই তাই যাত্রীরা বিক্ষোভ অবরোধ করেছে। এতে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। যাত্রীরা তাই পায়ে হেঁটে বা অটোরিকশায় গন্তব্যের দিকে কিছু অগ্রসর হয়ে বিকল্প পরিবহনে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
গাজীপুর সদরের ভাওয়াল মির্জাপুর কলেজের প্রভাষক মোঃ হাবিবুল্লাহ জানান, মঙ্গলবার সকালে কলেজের পরীক্ষার ডিউটি ছিল। চন্দনা চৌরাস্তা থেকে কোন গাড়ি পাচ্ছিনা, শেষে ব্যাটারী চালিত অটো রিক্সাযোগে ভেঙ্গে ভেঙ্গে পরীক্ষার কলেজে যেতে হচ্ছে । ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাধারণ যাত্রীরা গাছের ডালা মহাসড়কে ফেলে বিক্ষোভ ও অবরোধ তৈরি করেছে। ফলে কারিগুড়া চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। এজন্য কলকারখানা গুলোতে ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে চার দিনের ছুটি দেয়া হয়েছে। অনেকে ছুটির আগের দিন সোমবার বিকাল থেকেই নিজ নিজ গ্রামে ফিরতে শুরু করে। সন্ধ্যার পর মহাসড়কে গাড়ি ও মানুষের চাপ বাড়তে থাকে। শুরু হয় যানজট। এসুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ায় যাত্রীরা মহাসড়কে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। মধ্যরাতের পর অবরোধ তুলে নিলেও যানজট থাকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত। কিন্তু একই কারণে মঙ্গলবার সকালে আবার ঘরমুখো মানুষ ভিড় সৃষ্টি হয়।
নির্বাচনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য গাজীপুর ছাড়ছেন বিভিন্ন পোশাক গার্মেন্টস ও কলকারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে ভোগরা বাইপাস পেয়ারা বাগান বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায় অসংখ্য যাত্রী বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাদের প্রায় সবাই উত্তরবঙ্গের যাত্রী।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কারখানাগুলো চারদিনের ছুটি ঘোষণা করা হলে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য শ্রমিকরা গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী, বোর্ডবাজার, ভোগরা বাইপাস, চান্দনা চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি, কালিয়াকৈর চন্দ্রা মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এবং বাসস্ট্যান্ডে এসে অবস্থান নেন। তারা বাস ও গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।
সোমবার রাত ১১টার দিকে গাজীপুর মহানগরীর ভোগরা বাইপাস মোড়ের পেয়ারা বাগান বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, গন্তব্যে যাওয়ার জন্য শত শত যাত্রী অপেক্ষা করছে কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক বাস পাচ্ছেন না।
রংপুর গ্রামে যাত্রী আক্রাম হোসেন জানালেন, রংপুর যাওয়ার জন্য বাস না পাওয়ায় তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। মাঝেমধ্যে কয়েকটি বাস এলো তারা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন এতে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। একই চিত্র দেখা গেছে গাজীপুর চান্দনা চৌরাস্তা এলাকাতেও।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই চান্দনা চৌরাস্তা ও কোনাবাড়ি এলাকায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী গন্তব্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডগুলোতে অপেক্ষা করছেন। যারা সোমবার রাতে যানবাহন স্বল্পতার কারণে গন্তব্যে যেতে পারেনি তারা সকাল থেকেই বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন।
ভোগরা পেয়ারা বাগান বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, কিছুসংখ্যক যাত্রী ছোট পিকআপে করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। তাদের একজন ইসমাইল হোসেন জানান, বাসের ভাড়া বেশি হওয়ায় কম পয়সায় পিকআপে করে রংপুর যাচ্ছি।
অপর যাত্রী কামাল হোসেন বলেন, মূলত ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যেই গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা যাচ্ছি। পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে বেড়ানোও হয়ে যাবে।
গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সদস্য আব্দুল আউয়াল জানান, নির্বাচনের জন্য অনেক বাস পুলিশ রিকুইজিশন করেছে। যার কারণে সড়কে যানবাহনের সংখ্যা অনেক কম। রাস্তায় যানজট। গাড়ি তবে গন্তব্য গিয়ে আবার ফেরার পথে আর তেমন যাত্রী পাওয়া যাবে না বলে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
এ ব্যাপারে মহানগর পুলিশ ট্রাফিকের এডিসি অমৃত সূত্রধর জানান, সোমবার বিকেল থেকেই কয়েকটি গার্মেন্টসে বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তা অবরোধ করার ফলে যানজট সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার সকালেও মহাসড়কে গুলোতে গাড়ির তুলনায় যাত্রী সংখ্যা বেশি থাকায় যানবহন সংকট দেখা দিয়েছে। তবে বিচ্ছিন্নভাবে ভাড়া বেশি নেওয়ার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানান তিনি।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, সোমবার বিকেল থেকে সড়কে যাত্রীবাহী বাসের তুলনায় যাত্রীদের সংখ্যা বেশি ছিল। মঙ্গলবার সকালে একই চিত্র রয়েছে।
পরে পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নেয়। পরে সকাল পৌনে ১০টার দিকে গাড়ি চলাচল শুরু করে। তবে চাপ রয়েছে এখনও।

