মোঃ নাজিম উদ্দিন
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের শ্রীপুরে ঐতিহাসিক ‘চৌক্কার খাল’ (যা বর্তমানে গড়গড়িয়া খাল নামে পরিচিত) এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই খালটি দখল ও দূষণে এখন মৃতপ্রায়। ঐতিহাসিক এই জলাধারাটি রক্ষায় এবং কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য ফেরাতে দ্রুত পুনঃখননের দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শ্রীপুর উপজেলার লবলং খালের সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালটি দোখলা বাজার থেকে শুরু হয়ে ছাপিলাপাড়া ও ভাংনাহাটি গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। ১৯৭৮-৭৯ সালের দিকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করলে এই খালের খনন কাজ উদ্বোধন করতে তিনি সরাসরি শ্রীপুরে এসেছিলেন।
স্থানীয় প্রবীণরা স্মৃতিচারণ করে জানান, জিয়াউর রহমান শ্রীপুর পাইলট স্কুলে হেলিকপ্টারে অবতরণ করে গাড়ির বহর নিয়ে ছাপিলাপাড়া অংশে আসেন। সেখানে তিনি সাধারণ শ্রমিকদের সঙ্গে নিজ হাতে কোদাল দিয়ে মাটি কেটে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ঐ সময় শ্রমিকদের কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্ম সুচী হিসেবে ‘লাল গম’ দেওয়া হতো। একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে সরাসরি কাদামাটিতে নেমে কাজ করতে দেখে সে সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল।
এক সময়ের প্রমত্তা এই খালটি এখন প্রভাবশালী ও শিল্পকারখানার দখলে চলে গেছে। তৎকালীন শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুল হেলিম বলেন, “জিয়াউর রহমান অত্যন্ত শক্তিশালী মানুষ ছিলেন। মাটি ফাটা রোদে তিনি এক কোদাল মাটি দিয়ে ঝুড়ি (উরি) ভর্তি করেছিলেন, যা আমরা দুইজন মিলেও তুলতে পারছিলাম না, অথচ তিনি অনায়াসেই তা মাথায় তুলে ফেলেছিলেন।” বর্তমানে সেই বীরত্বগাথার স্মৃতিবিজড়িত খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষিজমিতে সেচ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হচ্ছে।
শ্রীপুর উপজেলা নদী ও প্রকৃতি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কারখানার দূষিত বর্জ্যে খালের পানি এখন বিষাক্ত। মাছ তো দূরের কথা, একটা ব্যাঙও এখানে বাঁচে না। আমরা চাই শহীদ জিয়ার স্মৃতি রক্ষার্থে তাঁর সন্তান ও বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রীর নেতৃত্ব এই খালটিকে ‘জিয়া হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করে পুনঃখননের উদ্যোগ নেবেন।”
খালটি রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশার বাণী শোনানো হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ জানান, ইতোমধ্যে চৌক্কার খালটি পুনঃখননের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই একজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের মাধ্যমে খালের যে অংশগুলো অবৈধ দখলে রয়েছে, সেগুলো উচ্ছেদ করে খনন কাজ শুরু করা হবে।

