ঠাকুরগাঁওপ্রতিনিধী:
উন্নয়ন আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও জেলার গ্রামীণ জনপদের দৃশ্যপট। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দক্ষ ব্যবস্থাপনায় জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাঁচটি বড় সেতুর নির্মাণ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বিড়ম্বনা থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।
ঠাকুরগাঁও এলজিডির কর্মকাণ্ডে জেলাজুড়ে বইছে উন্নয়নের জোয়ার। বিশেষ করে নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করতে টাঙ্গন, সেনুয়া ও সুখ নদীর উপর এই সেতুগুলো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টাঙ্গন নদীতে ৩০০ মিটার সেতু (মাতৃকা ঘাট): জেলার অন্যতম বড় প্রকল্প হিসেবে মাতৃকা ঘাটে টাঙ্গন নদীর ওপর ৩০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে শহরের সাথে গ্রামীণ এলাকার সংযোগ আরও সুদৃঢ় হবে।
আকচা ঘাটে ২০০ মিটার সেতু: আকচা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে এই ২০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটি যাতায়াতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সুখ নদীতে ৭৫ মিটার সেতু (কেষ্টপুর ঘাট): কেষ্টপুর ঘাটে সুখ নদীর ওপর ৭৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটি স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পালপাড়া ঘাটে ৯০ মিটার সেতু: পালপাড়া এলাকার নদী পারাপারে দুর্ভোগ কমাতে এই ৯০ মিটার সেতুটি দ্রুত কাজ এগিয়ে চলছে।
সেনুয়া নদীতে ৫৫ মিটার সেতু (শ্মশান ঘাট/জমিদার বাড়ি): সেনুয়া নদীর ওপর ৫৫ মিটারের এই সেতুটি ঐতিহাসিক জমিদার বাড়ি ও শ্মশান ঘাট এলাকার পর্যটন ও যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সহজ করবে।
উন্নয়নের প্রভাব,
স্থানীয়রা জানান, এসব সেতু না থাকায় দীর্ঘকাল ধরে বর্ষাকালে নৌকায় বা শুকনো মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হতো। এলজিডির এই মেগা প্রকল্পগুলো শুধু যোগাযোগের পথই সহজ করছে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আনছে। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল খুব সহজেই এখন বড় বড় হাট-বাজারে নিয়ে যেতে পারবেন।
ঠাকুরগাঁও এলজিডি সূত্রে জানা গেছে, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই বৃহৎ সেতুগুলোর কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। সেতুগুলো চালু হলে জেলা সদরের সাথে উপজেলা ও ইউনিয়নগুলোর দূরত্ব কমে আসবে এবং মানুষের জীবনমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।

