কুবি প্রতিনিধি :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এর উদ্যোগে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যতিক্রমধর্মী ওরিয়েন্টেশন, একাডেমিক গাইডলাইন, কাউন্সিলিং ও মোটিভেশনভিত্তিক ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচির ৯ম দিনে আইন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
রবিবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ৯ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভার্চুয়াল ক্লাস রুমে ৯ম দিনের কর্মসূচির উদ্বোধন হয়।
আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিম, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোঃ বেলাল হুসাইন, আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সাদিয়া তাবাসসুম (ভারপ্রাপ্ত) এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. নাহিদা বেগম।
রিসোর্স পারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন
একাউন্টটিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম (এআইএস) বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন এবং গণযোগাযোগ সাংবাদিকতা বিভাগের প্রভাষক এবং ছাত্র উপদেষ্টা মশিউর রহমান।
অনুষ্ঠান মোট পাঁচটি সেশনে অনুষ্ঠিত হয়। সেগুলো ছিল -কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও নিয়মকানুন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ওবিই সম্মত একাডেমিক প্রোগ্রামের কাঠামো, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও দায়িত্ব, শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং এআই যুগের উপযোগী কর্মসংস্থানযোগ্য ও উদ্ভাবনী গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্য ও দিকনির্দেশনা।
বিশেষ অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম নবীন শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই ভালো বন্ধু নির্বাচন, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং লক্ষ্য স্থির রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই চার বছরের শিক্ষাজীবনই ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে।”
তিনি আরও বলেন, ‘বাবা-মায়ের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতন থাকতে হবে। মাদক ও র্যাগিংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।’
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত পরিচয় গড়ে ওঠে শিক্ষার্থীদের সাফল্যের মাধ্যমে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীমের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে আরও উন্নত একাডেমিক পরিবেশ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দক্ষ, নৈতিক ও কর্মসংস্থান উপযোগী গ্র্যাজুয়েট হিসেবে গড়ে তুলতে আইকিউএসি বিভিন্ন একাডেমিক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।’
প্রধান অতিথি ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে আইকিউএসি নিরলসভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিভাগ ও প্রোগ্রামের অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও শিক্ষার মানকে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করতে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রচলিত নবীনবরণ আয়োজনের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য নির্ধারণ ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতিতে সহায়ক একটি ব্যতিক্রমধর্মী ওরিয়েন্টেশন আয়োজন করেছে আইকিউএসি।’
তিনি আরও বলেন, “স্টুডেন্ট ফার্স্ট” নীতিকে সামনে রেখে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, নিরাপদ আবাসন, আধুনিক শ্রেণিকক্ষ ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রশাসন কাজ করবে। ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইকিউএসি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (৩ মে) থেকে ১০ দিনব্যাপী এ নবীন বরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়।

