নীলফামারী প্রতিনিধী, মো: মোকলেছুর রহমান বাবু
দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান
শরীয়তপুর জেনারেল হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত এক গুরুতর রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাসির ইসলামের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার তীব্র প্রতিবাদে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (BPCDA) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে নীলফামারী জেলা শাখা এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।
সোমবার (১৮ মে) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। এসময় তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, চিকিৎসকরা মানুষের জীবন বাঁচাতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি চিকিৎসকদের ওপর হামলার শিকার হতে হয়, তবে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরমভাবে ব্যাহত হবে। এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ও বর্বরোচিত হামলা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাই অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান তারা।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি ডা. মো. হাসান ইমাম, সদস্য সচিব কাজী মহাব্বুর রশিদ, ক্লিনিক মালিক আব্দুর রউফ, স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
মানববন্ধন শেষে একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

