গৌতম কুমার মহন্ত – নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
মহিলাদের কেমিক্যাল প্রয়োগ করে অলংকার ও টাকা হাতিয়ে নেয়া শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
২০ জুন শনিবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার চনপাড়া এলাকার আবু হাসান, বাবু এবং সবুজ। ২১ জুন রোববার বিকেল ৩ টার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাঁর কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানান। পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক মাসে নওগাঁ জেলায় একদল অপরাধী শহরের কয়েকটি স্থানে বয়স্ক মহিলাদের টার্গেট করে।
এরপর তারা কথিত শয়তানের নিঃশ্বাস অর্থাৎ এক বিশেষ ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে ওই সকল মহিলাদের সম্মোহিত করে তাদের নিকট থাকা অলংকার এবং টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়। এই কেমিক্যালটা কোনোভাবে কাউকে নাকে প্রয়োগ করলে সেই ব্যক্তি কিছু সময়ের জন্য স্মৃতিভ্রম হয়ে যান এবং অপরাধীর কথামতো কাজ করেন।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেই তার কানের দুল স্বর্ণালংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে স্বেচ্ছায় তুলে দেন। এমনকি কখনও বাসার আলমারি খুলেও অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এসপি তারিকুল ইসলাম আরো বলেন, এ সংক্রান্তে নওগাঁ থানায় মোট তিনটি মামলা হয়।এসব মামলায় পুলিশ বেশ কয়েকবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় অভিযান চালায়।
পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্লেষণ করে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানতে পারে একটি চক্র টাঙ্গাইলে একই ধরনের ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ডিবি পুলিশের একটি চৌকস দল টাঙ্গাইল জেলার পুরাতন বাস স্ট্যান্ড থেকে শয়তানের নিঃশ্বাস চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এ চক্রটি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানা এলাকায় রয়েছে। এবং তাদের আট থেকে দশটি গ্রুপ রয়েছে।
তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষকে কেমিক্যাল প্রয়োগ করে এই ধরনের অপরাধ করে বেড়ায়। ইতিমধ্যেই তারা নারায়ণগঞ্জ, নওগাঁ এবং খুলনা জেলায় কমপক্ষে দশটি অপরাধ সংগঠিত করেছে। এই অপরাধ সংগঠনের ক্ষেত্রে তারা বয়স্ক মহিলাদেরকে টার্গেট করত। প্রথমে একজন অভিনয় করে সেই মহিলার কাছে সাহায্য চায়, পরে একজন এসে মহিলার সাথে কথা বলার চেষ্টা করে এবং অপরজন এসে সেই মহিলাকে শয়তানের নিঃশ্বাস বা কেমিক্যাল স্প্রে করে। এরপর আক্রান্ত মহিলা তাদের কথামতো সম্মোহিত হয়ে তার অলংকার এবং টাকা পয়সা অপরাধীর হাতে তুলে দেয়।

