মোঃ ইকবাল মোরশেদ:- স্টাফ রিপোর্টার।
কুমিল্লা জেলার লা

লাকসাম রেলওয়ে থানার সাফল্য: ০৮ মাসে মাদক ও চোরাচালানের ২০ মামলা, গ্রেফতার ২০
কসাম উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জংশন ও সীমান্তবর্তী সংলগ্ন এলাকা লাকসাম রেলওয়ে থানা মাদক ও চোরাচালান বিরোধী এক অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছেন।
যাহা চলতি বছরের (২০২৬ ইং) জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গত ০৮ মাসে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগে মোট ২০টি মামলা দায়ের করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। এসব মামলায় জড়িত থাকার অপরাধে ২০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদক ও চোরাচালানকৃত ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
আজ লাকসাম রেলওয়ে থানার অপরাধ ও অভিযানের বিবরণী সংক্রান্ত দাপ্তরিক নথি থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত মাদকের ধরন ও পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ (সংশোধিত ২০২০)-এর ৩৬(১) ধারার বিভিন্ন সারণি (যেমন- গাঁজার জন্য সারণি ১৯, ইয়াবার জন্য সারণি ১০, চোলাই মদের জন্য সারণি ২৪) এবং চোরাচালানকৃত ভারতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে দি কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯ (The Customs Act, 1969)-এর ১৫৬ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট ফৌজদারি কার্যবিধির সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলাগুলো রুজু করা হয়েছে।
জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি: বছরের শুরুতে এই দুই মাসে ১টি করে মাদক মামলা দায়ের হয় এবং ২ জন গ্রেফতার হন। আসামিদের কাছ থেকে মোট ৬ কেজি (প্রতি মাসে ৩ কেজি করে) গাঁজা উদ্ধার করা হয়।মার্চ ও এপ্রিল: এই দুই মাসে রেলওয়ে পুলিশের অভিযানে কোনো মাদক বা চোরাচালান সামগ্রী উদ্ধারের রেকর্ড নেই।মে: মে মাস থেকে মাদক চক্রের তৎপরতা বাড়লে পুলিশের তৎপরতাও বৃদ্ধি পায়। এ মাসে ৪টি মাদক মামলায় ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ১০ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা এবং ৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।জুন: জুনে মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬টিতে। ১ জন আসামিকে গ্রেফতারের পাশাপাশি এ মাসের সর্বোচ্চ ৩০ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।জুলাই (সবচেয়ে বড় চোরাচালান): জুলাই মাসে ৫টি মাদক মামলার পাশাপাশি ১টি চোরাচালান মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানে ২ জন গ্রেফতার হন। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে ছিল ১২০ বোতল ভারতীয় আমদানিকৃত নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ (WENREX), ২৫০ প্যাকেট ভারতীয় চকলেট, ১৭ কেজি গাঁজা, ৩০ লিটার চোলাই মদ এবং ১৪ বোতল প্রিমিয়ার গ্রেইন হুইস্কি।আগস্ট: ৫টি মাদক মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ৩০ লিটার চোলাই মদ, ৫২ কেজি ৯০০ গ্রাম গাঁজা এবং ৩৯ পিস ইয়াবা।সেপ্টেম্বর: অভিযানের ধারাবাহিকতায় ৫টি মাদক ও ১টি চোরাচালান মামলা দায়ের হয়। এ মাসে সর্বোচ্চ ৫ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় ২১ কেজি গাঁজা, ১৭৩৬ বোতল ভারতীয় ‘ইমামি ৭ অয়েলস ইন ওয়ান’ চুল তেল এবং ১০৭ বোতল ভারতীয় ওলিভ ও বডি অয়েল।অক্টোবর: সর্বশেষ অক্টোবর মাসে ১টি মাদক মামলায় ২ জনকে গ্রেফতার এবং ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

