মোঃ রেজাউল হক রহমত নবীনগর ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় উপজেলায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় দৈনিক আমার দেশ অনলাইনে সংবাদ প্রকাশের পরপরই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সভা ডেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ জরুরি সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব চৌধুরী। সভায় ইউএনও জানান, “সংবাদটি নজরে আসার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে এই সভা আহ্বান করা হয়েছে। প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দোষী প্রমাণিত হলে কোনো শিক্ষক বা অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে। এই বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আগামীতে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আরও বেশি গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে প্রশ্ন তৈরি ও বিতরণ করতে হবে। সব শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক এবং শিক্ষা কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।”
এদিকে জানা গেছে, উপজেলা পর্যায়ে প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য আলাদা প্রণয়ন কমিটি থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে তা কার্যকরভাবে বিদ্যমান নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, “উপজেলার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে সেগুলো অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়। এবারের পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো প্রশ্নপত্র সিলগালা করে প্যাকেটের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। তারপরও কীভাবে ফাঁস হলো, তা গভীরভাবে চিন্তার বিষয়। আগামীতে আরও সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
জানা গেছে, উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য একযোগে একই প্রশ্নপত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে অভিভাবকদের অভিযোগ, পরীক্ষার আগেই এক শ্রেণির অসাধু চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা প্রাইভেট শিক্ষকদের কাছ থেকে প্রশ্ন সংগ্রহ করে ফেলে।
উক্ত জরুরি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খালিদ বিন মনসুর, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আল মামুন, নবীনগর প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন মনির, একাডেমিক সুপারভাইজার হাসনাত জাহান, সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. মনসুর আহমেদ, সহকারী নির্বাচন অফিসার মো. সুমন ভূঁইয়া, ইচ্ছাময়ী পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউসার বেগম, আলীয়াবাদ মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম সবুজ, গোপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনির হোসেন এবং উত্তর লক্ষীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাউসার আলম প্রমুখ।

