আব্দুল ওয়াহাব জেলা প্রতিনিধি সাতক্ষীরাঃ
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা খলিষখালী বাজারকে বলা হয় দুধের গ্রাম। সেই জমিদারি আমল থেকে কালের সাক্ষী হিসেবে দুধের হাট শুধু জেলা ব্যাপি নয় সারা বাংলাদেশ ব্যাপি এর ক্ষ্যাতি রয়েছে। এখানে প্রত্যক দিন ২০ থেকে ২৫ গ্রামের মানুষ পুরুষ,মহিলারা মিলে দুধ বিক্রয় করতে আসে দলবেঁধে।
দূর দুরান্ত থেকে দুধ ক্রয় করিতে বেপারিরা ও ঘোষ মশায়রা ছুটে আসে খলিষখালীর বাজারে। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুধ বাজার বেচা কেনা শুরু হয়। ১৫ বছরের বালক বালিকারাসহ বাড়ির গ্রহবধু ও পুরুষরা সবাই মিলে জগে, পুরানো মাটির কলসে, প্লাস্টিকের বালতিতে করে একে একে জড় হতে থাকে দুধ বাজারে। ২শত বছর পূর্ব থেকে দুধ বাজার নামে পরিচিত খলিষখালীর বাজার বটতলা নামক স্থান। দূর-দূরান্তসহ এলাকার কারও কোন অনুষ্ঠানে দুধের প্রয়োজন হলে ছুটে যাই খলিষখালী দুধ বাজারে। এই বাজার থেকে স্বল্প মূল্যে দুধ ক্রয় করে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন জেলার কারখানায় পাঠিয়ে থাকেন।
এছাড়া এখান থেকে দুধের তৈরী মিষ্টি যেমন সন্দেশ, দই, চমচম, দানাদার, ছানার জিলাপী, রাজভোগ, পেড়া সন্দেশসহ বিভিন্ন মিষ্টি এলাকার কারিগররা তৈরী করে সরবরাহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এর মধ্যে সাতক্ষীরা, খুলনা, পিরোজপুর, বরিশাল, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ এদিকে দক্ষিণ অঞ্চল পাইকগাছা, কপিলমুনি, আশাশুনি, শ্যামনগর, কালিকঞ্জসহ অত্র এলাকায় সরবরাহ হয়।
এ বিষয়ে শ্যামল ঘোষ নামক এক দুধ ব্যবসায়ীর বলেন, আমি এই খলিষখালী বাজার থেকে দুধ কিনে ৩০ বছর যাবত দুধ বিক্রয় করে আমার পরিবারের স্বচ্ছলতা পেয়েছি। এক সময় ১০টাকা সেরে দুধ কিনতাম এখন সেই দুধ কিনতে হয় ৫৫-৬০ টাকা দরে।
স্থানীয় ব্যাবসায়ী সুশান্ত ঘোষ জানান, দেশি গাভি থেকে ২/৩ কেজি, ফ্রিজিয়ান ও অস্ট্রেলিয়ান গাভি দুধ দেয় ১৫/২০ কেজির মতো। এই দুধ বিক্রয় করে খলিষখালীসহ আশপাশের অনেক অসহায় পরিবার সাবলম্বী হয়েছে।
খলিষখালি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাফফর রহমান বলেন, এই বাজারকে স্থানীয়দের মতে দুধের বাজার বলা হয়। সকাল থেকে প্রতিদিন ২৫ গ্রামের মানুষ আসে এই বাজারে দুধ বিক্রয় করতে। কিন্তু বাজারটি আগের মত রয়ে গেছে। যদি আধুনিকতার ছোয়া লাগতো তাহলে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব পেত। এবং খামারিদের যদি ঝন সহায়তা দেওয়া যেত তাহলে তারা আরও স্বাবলম্বী হতো।

