আব্দুল আজিজ, নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় মরিচ চাষে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে আধুনিক মালচিং পদ্ধতি। প্রচলিত ধারা ভেঙে এ পদ্ধতিতে মরিচ চাষ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন উপজেলার নাসিরাবাদ গ্রামের পরিশ্রমী কৃষক সেন্টু। স্বল্প সময়ে, কম খরচে এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণ কমিয়ে নিরাপদ মরিচ উৎপাদন করে ইতোমধ্যেই তিনি স্থানীয় কৃষকদের কাছে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছেন।
চলতি মৌসুমে সেন্টু মালচিং পদ্ধতিতে ৫০ শতক জমিতে বিজলী প্লাস জাতের মরিচ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার মরিচ বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাঁর এই সাফল্য এখন পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
সেন্টু জানান—
“প্রথম দিকে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা নেই। পরে সাহস করে জমি প্রস্তুত করি, জৈব ও রাসায়নিক সার মিশিয়ে বেড তৈরি করি, তারপর মালচিং পেপার বিছিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে চারা রোপণ করি। প্রথমদিকে আমার কাছে নতুন মনে হলেও এখন দেখছি ফসল অনেক ভালো হয়েছে। সময় ও খরচ দুটোই কমছে, আর আয় হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। তাই আমি মনে করি, মালচিং পদ্ধতিই ভবিষ্যতের কৃষি।”
এই পদ্ধতির মূল সুবিধা হলো— জমিতে আগাছা দমন, পানি সাশ্রয়, রোগবালাই প্রতিরোধ ও গাছের দীর্ঘায়ু বৃদ্ধি। ফলে কৃষকরা শুধু লাভবানই হচ্ছেন না, পাচ্ছেন স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব ফসল।
নাচোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালেহ আকরাম বলেন—
“মৌসুমের আগে বা পরে মরিচ চাষ করতে পারলে এক বিঘা জমি থেকে সহজেই ৮০ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঢলে পড়া রোগে গাছ পঁচে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। এ সময় মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করলে গাছ রক্ষা পায়, উৎপাদনও হয় বেশি। এই পদ্ধতি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ।”
তিনি আরও বলেন—
“আমরা চাই সেন্টুর মতো প্রতিটি কৃষক আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ করুক। এতে মরিচসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। কৃষক যেমন লাভবান হবে, তেমনি দেশের অর্থনীতিতেও আসবে গতি।”
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, সেন্টুর সাফল্যে তারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। অনেকেই এখন প্রচলিত চাষাবাদ বাদ দিয়ে মালচিং পদ্ধতিতে মরিচসহ অন্যান্য ফসল চাষে ঝুঁকছেন।
কৃষিবিদদের মতে, পরিবেশবান্ধব এ আধুনিক পদ্ধতি যদি সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে শুধু নাচোল নয়— গোটা বাংলাদেশেই কাঁচা মরিচ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব হবে।

