• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • শৈত্যপ্রবাহ ও হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত জলঢাকার জনজীবন 

     swadhinshomoy 
    05th Jan 2026 12:46 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    মশিয়ার রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ

    হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় নীলফামারীর জলঢাকায় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার জনজীবন। এই তীব্র শীতে একটি কম্বল বা এক টুকরো গরম কাপড় যেন শীতার্ত মানুষের কাছে কেবল ত্রাণ নয়, বরং বেঁচে থাকার অবলম্বন।

    ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলে শীতের প্রকোপ সব সময়ই একটু বেশি থাকে। তবে এবার দিনের আলো ফোটার আগেই শুরু হওয়া কনকনে হিমেল বাতাস ভোগান্তি বাড়িয়েছে বহুগুণ। সূর্য ডোবার পর থেকে রাত বাড়ার সাথে সাথে শীতের তীব্রতা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে যায়। বিশেষ করে খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশা-ভ্যান চালক ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা পড়েছেন চরম বিপাকে। গরম কাপড়ের অভাবে খোলা আকাশের নিচে বা রাস্তার পাশে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন সমাজের ছিন্নমূল মানুষগুলো।

    গতকাল রাতে জলঢাকা পৌর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। শীত নিবারণের ন্যূনতম উপকরণ ছাড়াই বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় কুঁকড়ে শুয়ে রাত পার করছেন ভিক্ষুক, দিনমজুরসহ বেশ কয়েকজন অসহায় মানুষ।

    শীতে জুবুথুবু ষাটোর্ধ্ব ভ্যানচালক জাহাঙ্গীর আলম আক্ষেপ করে বলেন, “শীতে শরীর কাঁপে, ঠান্ডায় রাতে ঘুমাতে পারি না। গায়ে দেওয়ার মতো একটা গরম কাপড় থাকলেও হয়তো বাঁচতাম।” তাঁর এই আর্তনাদ যেন সমাজের বিত্তবান ও প্রশাসনের বিবেকের কাছে এক বড় প্রশ্ন।

    শুধু শহর নয়, উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোর চিত্র আরও করুণ। দরিদ্র পরিবারগুলোতে শিশু ও বয়স্কদের জন্য নেই পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র। শীতের ভয়ে শিশুদের স্কুলে যাওয়ার প্রবণতা কমেছে। অন্যদিকে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে সবচেয়ে বেশি ভুগছে শিশু ও বৃদ্ধরা।

    শীতের হাত থেকে বাঁচতে সামর্থ্যবানরা ভিড় করছেন বিভিন্ন মার্কেট ও ফুটপাতের গরম কাপড়ের দোকানে। আর এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা গরম কাপড়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

    স্থানীয়দের মতে, কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তিউদ্যোগে সীমিত পরিসরে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা বিশাল চাহিদার তুলনায় খুবই অপ্রতুল। অনেক অসহায় মানুষ এখনো কোনো সহায়তা পাননি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ত্রাণ তৎপরতা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

    জলঢাকাবাসীর আহ্বান, হাড়কাঁপানো এই শীতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সমাজের বিত্তবান ও প্রশাসনকে জরুরি ভিত্তিতে এগিয়ে আসতে হবে। দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণ নিশ্চিত করা না গেলে মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়তে পারে।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    January 2026
    S M T W T F S
     123
    45678910
    11121314151617
    18192021222324
    25262728293031