স্টাফ রিপোর্টার – মাগুরা
মাগুরা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কুকনা গ্রামে জমির মালিকানা ও ভোগদখল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বৈধ কাগজপত্র ও রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও তারা নিজেদের জমির দখল ও ভোগদখলে বাধার মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি, হয়রানি ও মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী রুমেন জানান, কুকনা মৌজার এসএ ৫৪৮ নম্বর খতিয়ানভুক্ত এবং আরএস ৭৪ নম্বর খতিয়ানের আওতাভুক্ত জমির মূল মালিক ছিলেন তার বাবা আঃ মজিদ বিশ্বাস। ২০২০ সালে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে তিনি তার সন্তানদের নামে ৩০ শতক জমি লিখে দেন। এর মধ্যে ২০ শতক জমি রুমেনের নামে এবং ১০ শতক জমি তার বোনের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে নামজারি ও রেকর্ড সংশোধনের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে তারা দীর্ঘদিন ধরে জমির ভোগদখলে রয়েছেন বলে দাবি করেন।
রুমেনের অভিযোগ, বাশি বিশ্বাস, পলাশ বিশ্বাস ও ওদুদ বিশ্বাস তাদের জমি ভোগদখল এবং বিক্রিতে বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় বজলু মেম্বার ও তার ছেলে হাসু মিয়ার সহযোগিতায় তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি খুন-জখমের হুমকি দেওয়া, বানোয়াট মামলা দিয়ে হয়রানি এবং জমিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রুমেন বলেন, তাদের পরিবার বহুবার বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছে এবং সুষ্ঠু সমাধানের আশায় বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনও স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
আবেগঘন কণ্ঠে ভুক্তভোগী রুমেন বলেন, “এই জমিটুকুই আমাদের শেষ সম্বল। আমাদের আর কোনো সহায়-সম্বল নেই। প্রশাসনের কাছে একটাই আবেদন—আমাদের ন্যায্য জমি ফিরিয়ে দিন, না হয় আমাদের জীবন নিয়ে নিন।”
এলাকাবাসীর একটি অংশও বিষয়টির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং বিরোধের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে বিবাদীপক্ষ বাশি বিশ্বাস, পলাশ বিশ্বাস, ওদুদ বিশ্বাস, বজলু মেম্বার ও হাসু মিয়ার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত আইনগতভাবে নিষ্পত্তি না হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

