পিরোজপুর প্রতিনিধি শুভ : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় নিখোঁজের কয়েকদিন পর ৫ বছর বয়সী শিশু রাইয়ান মল্লিকের লাশ উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির আপন চাচাতো ভাইসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী।
নিহত শিশু মো: রাইয়ান মল্লিক (৫) ভান্ডারিয়া উপজেলার উত্তর আতরখালী গ্রামের মো: রাছেল মল্লিকের ছেলে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ মো: রিয়াদ মল্লিক (১৯), তার পিতা মো: মিজান মল্লিক (৪২), মো: সাইদুল ইসলাম (৩৬) এবং মোসা: পারভীন বেগম (৩৫), স্বামী মো: মিজান মল্লিক সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, শিশুটির মা সাইয়েদা তন্বী গত ২৫ জানুয়ারি তার সন্তান নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে ভান্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ৭/৮/৩০ ধারায় ভান্ডারিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা রুজু করা হয়। জিডি ও মামলার প্রেক্ষিতে নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে ডিবি পুলিশের একটি দল ভান্ডারিয়া থানার উত্তর আতরখালী গ্রামে স্থানীয়দের সহায়তায় তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের একপর্যায়ে ভিকটিমের বাড়ির পাশের একটি মসজিদের বারান্দা থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, চিরকুটটি ভিকটিমের চাচাতো ভাই মো: রিয়াদ মল্লিকের (১৯) হাতে লেখা। রিয়াদ মল্লিক স্বীকার করেন, তিনি নিজ হাতে চিরকুটটি লিখেছেন। মো: সাইদুল ইসলাম (৩৬)-এর কথায় তিনি চিরকুটটি মসজিদের বারান্দায় রেখে আসেন। এ কাজের জন্য সাইদুল ইসলাম তাকে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহম্মেদ সিদ্দিকী জানান গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াদ মল্লিক ভিকটিম রাইয়ান মল্লিক কোথায় আছে সে বিষয়ে তার অবগত। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বসতঘরের সামনের একটি গোয়ালঘরের ভেতরে খড়কুটার মধ্যে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন।

