হৃদয় রায়হান কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার কুষ্টিয়া জেলার প্রান্তিক খামারিরা তাদের পশু প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এবারের কোরবানির বাজারে আলোড়ন তুলেছে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার জিয়ারখী ইউনিয়নের কমলাপুর লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রায় ২৬ মণ ওজনের ‘রাজাবাবু’। যার দাম হাঁকছেন ৮ লাখ টাকা।
ধবধবে সাদা ও কালো রঙের গরুটির বয়স তিন বছর। এ গরুটি এখন চার দাঁতের। বিশাল আকারের ‘রাজাবাবু’কে দেখতে প্রতিদিন দুর-দুরান্ত থেকে খামারে আসছে দর্শনার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিজ বাড়ির গাভী গরুর বাছুর এ গরুটিকে নিজ সন্তানের মতো লালন পালন করছেন মো. মোতালেব হোসেন মন্ডল। ভালোবেসে গরুটির নাম দিয়েছিলেন ‘রাজাবাবু’।
গম, ছোলা, চালের গুড়া, আলু ও ঘাস খাইয়ে দেশিয় পদ্ধতিতে পালন করা হয়েছে গরুটি।
সরেজমিনে মো. মোতালেব হোসেন মন্ডলের খামারে গিয়ে দেখা যায় প্রায় ২৬ মণ ওজনের গরুটির যত্ন নিচ্ছেন তার সহধর্মিনী।
তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর যাবত আমাদের গরুর খামার আছে এবং ৩ বছর এই গরুটা আমারা সখ করে লালন-পালন করছি। এই গরুকে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হয়, আমরা কোন প্রকার ওষুধ বা ইঞ্জেকশন ব্যবহার করিনি।
গরুর খাওয়া বাবদ প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে, গরুটির ওজন ২৬ মণ, দাম ৮ লাখ টাকা। ’
রাজাবাবুর মালিক মোতালেব হোসেন মন্ডল বলেন, আমার একটি গাভীর পেট থেকে রাজাবাবুর জন্ম। জন্মের পর থেকে তাকে আমি লালনপালন করছি। গরুটি খুবই শান্ত প্রকৃতির। এইজন্যই তার নাম রেখেছি রাজাবাবু।
আমার নিজস্ব চাষ করা ঘাস, খড়, ভুষি খাইয়েছি। বাইরের কোনো খাবার খাওয়াইনি। আমি অসুস্থতা থাকার কারণে গরুটি এবার হাটে তুলতে পারছি না।
তিন আরও জানান, ব্যাপারীরা এ পর্যন্ত রাজাবাবুর দাম ৬ লাখ টাকা বলেছেন। কিন্তু তিনি ৮ লাখ টাকায় গরুটি বেঁচতে চান। এই দুই দিনের মধ্যে যদি কাঙ্খিত দামে ‘রাজাবাবু’ বিক্রি না হয় তাহলে তিনি শনিবার পশুটিকে নিয়ে গাবতলীর হাটে যাবেন।
মোতালেব হোসেনে আরও বলেন, এবার যদি ‘ভারত থেকে গরু না আসে তাহলে লাভবান হবেন খামারিরা। গো-খাদ্যের দাম অনেক বৃদ্ধি তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই যেন গরু আমদানি করা না হয়। ’

