• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • ঠাকুরগাঁওয়ে একাই ৫২ হাজার তালগাছ লাগিয়েছেন খোরশেদ আলী 

     Md Mokter Hossain 
    11th Jul 2026 10:11 am  |  অনলাইন সংস্করণ Print

    রহমত আরিফ – ঠাকুরগাঁও সংবাদদাতা

    দেশব্যাপী বজ্রপাতে প্রাণহানি কমাতে কয়েক বছর আগে তালগাছ রোপণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনগুলোও তালগাছ লাগানোর কর্মসূচিতে অংশ নেয়। কারণ উঁচু আকৃতির এ গাছ বজ্রপাতের আঘাত নিজের ওপর নিয়ে আশপাশের মানুষের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ স্থানে সেই উদ্যোগ স্থায়ী হয়নি।

    পরিচর্যার অভাব, তদারকির ঘাটতি, গবাদিপশুর আক্রমণ ও স্থানীয়ভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রোপণ করা অসংখ্য তালগাছের চারা এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না।

    একই চিত্র দেখা গেছে ঠাকুরগাঁওয়েও। জেলার বিস্তীর্ণ কৃষিপ্রধান এলাকায় প্রতি বছর বজ্রপাতের ঝুঁকি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর সরকারি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। কোথাও পর্যাপ্ত বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড নেই, আবার কোথাও আশ্রয়কেন্দ্রেরও অভাব রয়েছে। ফলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মাঠে কাজ করা কৃষক ও সাধারণ মানুষ এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁওয়ে অতীতে বজ্রপাত প্রতিরোধে তালগাছ রোপণ কিংবা বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপনের বড় কোনো সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। তবে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো জেলার হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বজ্রপাত প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এ দুই উপজেলার জন্য মোট ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং খোলা ফসলি মাঠের পাশে কৃষকদের জন্য আশ্রয়ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    এর আগে ২০২৩ সালে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির সামাজিক দায়বদ্ধতা (CSR) কর্মসূচির আওতায় বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়কের পাশ এবং খোলা জায়গায় প্রায় এক হাজার তালগাছের চারা রোপণ করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের আশা ছিল, কয়েক বছরের মধ্যেই এসব গাছ বড় হয়ে বজ্রপাতের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমাতে ভূমিকা রাখবে। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ চারাই আর টিকে নেই।

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তালগাছ লাগানোর পর সেগুলোর কোনো নিয়মিত পরিচর্যা বা তদারকি হয়নি। কোথাও গরু-ছাগল খেয়ে ফেলেছে, কোথাও আগাছার মধ্যে চাপা পড়ে নষ্ট হয়েছে। অনেক জায়গায় মানুষ জানতেই পারেন না কোথায় তালগাছ লাগানো হয়েছিল। ফলে কোটি মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবে নেওয়া উদ্যোগগুলো মাঠপর্যায়ে স্থায়ী কোনো সুফল দিতে পারেনি।

    এ অবস্থায় ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সদর উপজেলার পাহাড়ভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা খোরশেদ আলী। ব্যক্তিগত উদ্যোগে তিনি প্রায় ৫২ হাজারের বেশি তালবীজ ও চারা রোপণ করেছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে সেগুলোর পরিচর্যা করে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, খোরশেদ আলীর লাগানো গাছগুলোই বর্তমানে সবচেয়ে দৃশ্যমান ও টিকে থাকা তালগাছের উদাহরণ। অন্যদিকে বিভিন্ন সময়ে রোপণ করা অধিকাংশ গাছই এখন বিলুপ্তপ্রায়।

    স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সরকারি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লাগানো অধিকাংশ তালগাছ এখন আর চোখে পড়ে না। কিন্তু খোরশেদ আলীর লাগানো গাছগুলো এখনো দৃশ্যমান। ব্যক্তিগত উদ্যোগে এত বড় পরিসরে তালগাছ রোপণ ও সংরক্ষণের এমন দৃষ্টান্ত জেলায় বিরল।

    খোরশেদ আলী বলেন, শুধু তালগাছ লাগালেই হবে না, গাছগুলো বড় হওয়া পর্যন্ত নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে। অনেক জায়গায় চারা লাগানোর পর আর কেউ খোঁজ রাখে না। তাই সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়। আমি নিজের উদ্যোগে বছরের পর বছর ধরে তালবীজ সংগ্রহ করে রোপণ করছি এবং যতটা সম্ভব পরিচর্যা করছি। আমার বিশ্বাস, সবাই যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে কিছু তালগাছ লাগিয়ে সেগুলোর যত্ন নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বজ্রপাতের ঝুঁকিও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

    জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আফাজ উদ্দিন বলেন, জেলা পরিষদের উদ্যোগে হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন এবং ফসলি মাঠের আশপাশে আশ্রয়ঘর নির্মাণের কাজ চলছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মাঠে কর্মরত কৃষকরা যাতে নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারেন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

    অন্যদিকে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন, গত দুই বছরে বজ্রপাত নিরোধক বা তালগাছ রোপণ-সংক্রান্ত কোনো সরকারি প্রকল্প কিংবা বরাদ্দ আমাদের দপ্তরে আসেনি।

    তবে কৃষি বিভাগ নিজস্ব উদ্যোগে কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম জানান, গত বছর কৃষি বিভাগের নিজস্ব উদ্যোগে ৪৫০টি তালগাছ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় আরও পাঁচ হাজার তালগাছ লাগানো হয়েছে।

    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    July 2026
    S M T W T F S
     1234
    567891011
    12131415161718
    19202122232425
    262728293031