নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় কৃষকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬। কৃষি উন্নয়ন, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়কে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা। দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষক-কৃষাণীদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী ডিমলা উপজেলা পরিষদ চত্বরে পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার)’ প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠিত এ কংগ্রেসে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের পিএফএস (ফার্মার ফিল্ড স্কুল) ও নন-পিএফএস পার্টনার ফিল্ড স্কুলের সদস্য কৃষকেরা অংশগ্রহণ করেন।
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, পুষ্টিনির্ভর কৃষি, কৃষিপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল উন্নয়ন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিভিন্ন প্রদর্শনী, আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আয়োজনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। কংগ্রেসে অংশ নেওয়া কৃষকেরা আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিভিন্ন দিক সম্পর্কে জানার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে এসব প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কেও ধারণা লাভ করেন।
আয়োজকরা জানান, পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬-এর মূল উদ্দেশ্য ছিল পিএফএসে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কৃষকদের প্যাকেজ প্রযুক্তিবিষয়ক জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা প্রকল্প এলাকার অন্যান্য নন-পিএফএস কৃষক-কৃষাণীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া। পাশাপাশি নতুন উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ এবং কৃষিপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল বিষয়ে কার্যকর ধারণা প্রদান ও বাস্তব প্রয়োগে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করাও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
এ ছাড়া সকল পিএফএসকে ফার্মার সার্ভিস সেন্টারে রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, কৃষকদের সক্ষমতা উন্নয়ন এবং পার্টনার প্রকল্পের প্রযুক্তি ও কলাকৌশলের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মো. সাদেকুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মীর হাসান আল বান্না।
স্বাগত বক্তব্যে মীর হাসান আল বান্না বলেন, “পার্টনার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নতুন কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করা। দেশের কৃষিকে খোরপোষভিত্তিক চাষাবাদ থেকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
তিনি আরও বলেন, “আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির বিস্তার এবং কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষি খাতকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করে তোলাই এ প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. সাদেকুজ্জামান বলেন, “কৃষিই আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। পার্টনার প্রকল্প কৃষকদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
মেলায় অংশগ্রহণকারী কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, প্যাকেজ প্রযুক্তি, আধুনিক কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং কৃষিপণ্যের মূল্যশৃঙ্খল গঠনের বিভিন্ন বিষয়ে তিনি নতুন ধারণা পেয়েছেন। এসব জ্ঞান নিজের কৃষিকাজে প্রয়োগের পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য কৃষকের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রওশন কবির, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আ ন ম শিবলী সাদিক, জেলা বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক রইসুল আলম চৌধুরী, জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গোলাম রব্বানী প্রধান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সাধারণ কৃষক-কৃষাণীরা।
কৃষি প্রযুক্তির প্রসার, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং প্রান্তিক কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই কৃষি উন্নয়নে পার্টনার কংগ্রেস-২০২৬ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

