গৌতম কুমার মহন্ত, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় শতবর্ষী কশব মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান।
উদাসীন সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসারসহ উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষ। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনটি এখন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগন। এ বিদ্যালয় ভবনের দেয়ালে অধিকাংশ স্থানে ফাটলসহ প্লাস্টার উঠে গেছে। একই সঙ্গে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিনের চালার ছাউনি জং ধরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে যাচ্ছে ক্লাস রুম। বৃষ্টির পানি ক্লাস রুমে জমে থাকায় ব্যহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনটির অবস্থা দিন দিন আরও নাজুক হয়ে পড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই প্রতিদিন পাঠদান করা হচ্ছে আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থীকে। এ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান জানান, ১৯২৩ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়।১৯৭৩ সালে এটি সরকারি হয়। জরাজীর্ন অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে বিদ্যালয়টি দ্রুত সংস্কারের পাশাপাশি একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবী জানান প্রধান শিক্ষক এবং স্থানীয়রা।
২০২৬ সালে বিদ্যালয়টির ৫ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এর মধ্যে চারজন ট্যালেন্টপুলে এবং একজন সাধারণ বৃত্তি পেয়েছে। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে আটজন শিক্ষক ও একজন দপ্তরী কর্মরত রয়েছেন। তবে অবকাঠামোগত সংকটের কারণে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে জরাজীর্ণ ভবনে ক্লাস করানো নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জানান, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় সব সময় আতঙ্কের মধ্যে ক্লাস করতে হচ্ছে।
দ্রুত ভবনটি সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা তাদের। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দ্রুত সংস্কারসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট একটি নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি। এবিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী বলেন, ৮৫ নম্বর কশব মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে এবিষয়ে তিনি অবগত নন।
তবে এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কতৃপক্ষের থেকে আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। মান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মুসাব্বির খান বলেন,ওই বিদ্যালয় ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি তাকে কেউ বলেনি। আবেদন পেলে সংশ্লিষ্ট উদ্বর্তন কর্তৃপক্ষের মধ্যমে বিদ্যালয় ভবন সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

