মোঃ রাকিব হাওলাদার
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :
মাছ ধরা দেখার শখ থেকেই বাবার সঙ্গে সাগরে গিয়েছিল ১২ বছরের শিশু সিয়াম। কিন্তু সেই শখের যাত্রাই পরিণত হয় হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী থেকে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় বাবা শামীম ও তার একমাত্র ছেলে সিয়ামের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডুবে যাওয়া ট্রলারটি বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার করে বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা স্লুইস ঘাটে আনা হয়। উদ্ধারকালে ট্রলারের ভেতর থেকেই শামীমের মরদেহ পাওয়া যায়। অপরদিকে, পরদিন শুক্রবার সকালে ট্রলারডুবির স্থান থেকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার শিশু ছেলে সিয়ামের মরদেহ। পরে কোস্টগার্ড দুপুরে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
নিহত শামীম বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা বাঁধঘাট এলাকার বাসিন্দা এবং ট্রলার মালিক মো. সিদ্দিক জোমাদ্দারের ছেলে। শিশু সিয়াম ছিল তার নাতি। সে চরগঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং সম্প্রতি বার্ষিক পরীক্ষা শেষ করেছে।
জানা যায়, পরীক্ষা শেষে বাবার সঙ্গে মাছ ধরা দেখার আগ্রহ প্রকাশ করে সিয়াম। আদরের ছেলের আবদার রাখতে বাবাও তাকে সঙ্গে নিয়েই সাগরে যাত্রা করেন। কিন্তু সেই যাত্রা যে তাদের দু’জনের শেষ যাত্রা হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
উদ্ধার হওয়া জেলেরা জানান, বুধবার রাতে বঙ্গোপসাগরের পাইপ বয়া এলাকায় ট্রলারটি নোঙর করা ছিল। হঠাৎ ঝড়ো বাতাস শুরু হলে ট্রলারের নিচের অংশে ছিদ্র হয়ে পানি ঢুকতে থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রলারটি কাত হয়ে ডুবে যায়। এ সময় শামীম ও তার শিশু ছেলে ট্রলারের ভেতরে আটকা পড়ে যান।
ঘটনার সময় ট্রলার মালিক মো. সিদ্দিক জোমাদ্দারসহ চারজন জেলে ট্রলারের ভাসমান অংশ ধরে দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকেন। পরে ভোরের দিকে পাশের একটি ট্রলার তাদের জীবিত উদ্ধার করে। তবে শামীম ও সিয়ামকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ছেলে ও নাতিকে একসঙ্গে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন মো. সিদ্দিক জোমাদ্দার। তিনি বলেন, “নাতির শখের কারণেই এই সাগরযাত্রা। এক মুহূর্তে আমার ছেলে ও নাতি—দু’জনকেই হারালাম।”
রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শিরাজুল ইসলাম জানান, ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং নৌপুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছে।
রাঙ্গাবালী নৌপুলিশ কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নূরে জায়েদ বলেন, “বাবা ও শিশুপুত্রের এই মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।”

