বিশেষ প্রতিনিধি মোঃ তপছিল হাছান:
চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ৩নং খাদেরগাঁও ইউনিয়নের খাসেরচর গ্রামে ফসলি জমিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ তিন বছর ধরে চলমান সন্ত্রাসী লুটপাটে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষক, ভূমি মালিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে জমিতে ফসল রোপণের পর তা পাকলেই গভীর রাত কিংবা দিনের আলোতে অস্ত্রের মুখে ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তচক্র।
ভুক্তভোগী ভূমির মালিক ও কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন—জহরলাল মল্লিক, অতুল মল্লিক, চিত্র মল্লিক, পান কৃষ্ণ মল্লিক, হরিচন্দ্র মল্লিক, মজলু ব্যাপারী, জাকির ফকির, ফারুক ব্যাপারী, সাত্তার ব্যাপারী, দুলাল ব্যাপারী, রবিউল ব্যাপারী, সেলিম ব্যাপারী, করম আলী ব্যাপারী, হাজেরা বেগম, আইতালি ব্যাপারী, সালমা বেগম, অনিল সরকার ও চম্পা খাতুন।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিগত সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বৈধভাবে জমি ক্রয় করে তারা ব্রিটিশ আমল থেকে প্রায় ৫২ বছর ধরে প্রায় ১৮ একর জমি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকে স্থানীয় সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের কথিত গডফাদাররা সংগঠিত হয়ে জমিতে ফসল পাকলেই দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। কেউ প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাসেরচর গ্রামে বর্তমানে মুসলমান ৪২টি ও হিন্দু ৪৪টি বাড়িসহ দুই শতাধিক মানুষের বসবাস। সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের জীবন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে—নারী ও বৃদ্ধাদের ওপর হামলা, বসতঘরে অনুপ্রবেশ করে ভাঙচুর ও লুটপাট এখন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হুমায়ুন মেম্বার, আবুল প্রধানিয়া, কিশোর গ্যাংয়ের কথিত গডফাদার পাপেল, মমিন ও জহির কিলারসহ একাধিক সন্ত্রাসীর নাম উঠে এসেছে। তাদের নেতৃত্বেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
খাসেরচরের নারী বাসিন্দারা বলেন,
“রাতে আতঙ্কে ঘুমাতে পারি না। সন্তানদের নিয়ে সবসময় ভয় আর উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকতে হয়।”
একইভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“আমরা সংখ্যালঘু বলেই নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। টাকা ছাড়া আমাদের পক্ষে কথা বলার মতো কেউ নেই।”
এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে খাসেরচর গ্রামের কৃষক, ভূমি মালিক ও সাধারণ মানুষের একটাই জোর দাবি—অবিলম্বে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং সদস্যদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

