গৌতম কুমার মহন্ত, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধিঃ এলপিজি গ্যাসের দাম কমার প্রভাব পড়েনি নওগাঁয়।
গ্যাসের দাম কমলেও জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীদের
কাছ থেকে বারো কেজি এলপিজি গ্যাস সর্বোচ্চ আড়াই থেকে তিন’শত টাকা বেশি
দামে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নওগাঁ জেলা সহকারী পরিচালকের উদাসীনতায় এলপিজি খুচরা গ্যাস বিক্রেতারা অধিক মুনাফা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে এলপিজির উৎপাদন পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মুসক) প্রত্যাহারপূর্বক আমদানি পর্যায়ে মূসক আরোপের ফলে ভোক্তা পর্যায়ে সরকারি-বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় করা
হয়েছে। তবে এলপিজি গ্যাসের দাম কমলেও ভোক্তা পর্যায়ে এর কোন প্রভাব পরেনি। ফলে
অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে গিয়ে ভোক্তাদের ক্ষোভ বিরাজ করছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার এ
সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে ১২
কেজির এলপিজি গ্যাসে দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গৃহবধূ ঝুমু
রানী মন্ডল জানায়, শহরের পোষ্ট অফিস মোড় এলাকার এক খুচরা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে
১২ কেজি এলপিজি গ্যাস ক্রয় করেন ১ হাজার ৬২০ বিশ টাকায় এবং সামশুল আলম নামে এক
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বলেন, শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার এক দোকান থেকে ১২ কেজির এলপিজি গ্যাস ক্রয় করেন ১ হাজার ৬ শত টাকায়। ভোক্তাদের অভিযোগ শহরের বিভিন্ন খুচরা দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণ এলপিজি গ্যাস মজুত থাকলেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে নির্ধারিত দামের চেয়ে ১২ কেজির এলপিজি গ্যাস দুই থেকে আড়াইশ টাকা বেশি নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। ১২ কেজির এলপিজি গ্যাস ১ হাজার ৫৮০ টাকা দামে বিক্রির কথা স্বীকার করে
শহরের পোস্ট অফিস মোড় এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান মুঠোফোনে বলেন, ডিলালরা
চাহিদা মতো এলপিজি গ্যাস সরবরাহ না করায় দাম বেড়েছে। ডিলারদের কাছ থেকে
নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। এজন্য গ্যাসের দাম কমানো
সম্ভব নয় বলে ওই ব্যবসায়ী জানান। এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি ১২ কেজি
সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। এর আগের মাসে জানুয়ারিতে
দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে ১২ কেজিতে দাম বাড়ে ৫০ টাকা। অর্থাৎ
ফেব্রুয়ারি মাসে ৫০ টাকা দাম বাড়ানোর পর এবার ১৫ টাকা কমানো হয়েছে। এলপিজি
গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য ডিলারদের দায়ী করে নওগাঁ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রুবেল আহমেদ বলেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে।

