এ, টি এম হুমায়ুন কাদির
নান্দাইল উপজেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জ শহরের আলোরমেলা এলাকায় এক তরুণ গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত উম্মে সিজ্জিল ইফতি (২২) নান্দাইল উপজেলার মুশুল্লি ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং নান্দাইল মুসুল্লি কলেজের বিএম শাখার প্রভাষক মুমতাজ মুকুলের স্ত্রী।
রোববার গভীর রাতে আলোরমেলার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এর মর্গে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রভাষক মুকুলের দুই স্ত্রী রয়েছে। ছোট স্ত্রী ইফতি তাঁর সঙ্গে আলোরমেলায় বসবাস করতেন। বড় স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে শহরের গাইটাল এলাকার জনতা রোডে পৃথক বাসায় থাকেন এবং তিনি একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। প্রতিবেশীরা জানান, দাম্পত্য কলহের কারণে প্রায়ই তাঁদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হতো। ঘটনার রাতেও ঝগড়ার শব্দ শুনেছেন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
পরে রাতেই জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে ইফতিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান প্রতিবেশীরা। খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার সময় তাঁর স্বামী বাসায় ছিলেন না বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরদিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রভাষক মুকুলকে হেফাজতে নেয় কিশোরগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা জানান, প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। পারিবারিক কলহ নাকি অন্য কোনো কারণ—তা জানতে পুলিশ সব দিক খতিয়ে দেখছে।

