তৌহিদুল ইসলাম শামিম, হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: জ্বালানি তেল পেট্রোল ও অকটেনের সংকটে দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলিতে অবস্থিত একমাত্র ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল আরোহীসহ পেট্রোলচালিত যানবাহনের চালক ও মালিকরা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকে সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রির পর মজুদ শেষ হয়ে গেলে স্টেশনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরেজমিনে বিকেলে দেখা যায়, পেট্রোলের আশায় অনেক মোটরসাইকেল আরোহী পাম্পে ভিড় করলেও তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেক বরাদ্দ পাওয়ায় দ্রুত মজুদ শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে ডিপো থেকে জ্বালানি তেল আনার চেষ্টা চলছে, যা সন্ধ্যার মধ্যে পৌঁছাতে পারে।
হিলি ফিলিং স্টেশনের বিক্রয়কর্মী জাকারিয়া হোসেন বলেন, “যেটুকু তেল ছিল, সকাল থেকেই বিক্রি করে শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে তেল এলে আবার বিক্রি শুরু করা হবে।”
স্টেশনের মালিক আলহাজ্ব শাফি শেখ বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার লিটার জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকলেও ডিপো থেকে মাত্র ২ হাজার লিটার বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এতে করে স্বাভাবিকভাবেই সংকট তৈরি হচ্ছে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, জ্বালানি তেলের কোনো সামগ্রিক সংকট নেই। ডিপো থেকে বরাদ্দকৃত তেল ফিলিং স্টেশনে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
তিনি আরও জানান, লাইসেন্সবিহীনভাবে খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল আরোহীরা জানান, হঠাৎ করে তেল না পেয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েও তেল সংকটে পড়ায় অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দ্রুত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে এই ভোগান্তি কমে আসবে।

