ওসমান গনি সরকার, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীদের আতঙ্ক হয়ে উঠেছে নবাগত দুই ওসি মুরাদনগর থানার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও বাঙ্গরা বাজার থানার মোঃ শফিউল আলম। যোগদানের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন এই দুই ওসি। দুই থানায় দিনে ও রাতে প্রতিনিয়তই চলছে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান। মাদক রোধে অভিযানের সঙ্গে বেড়েছে মাদকদ্রব্য উদ্ধার, আসামি গ্রেপ্তার ও মামলার সংখ্যা। অভিযানের কারণে গা ঢাকা দিয়েছে চিহ্নিত মাদক কারবারিরা। অনেকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। কারবারিরা নতুন কৌশলে মাদকদ্রব্যের কারবার শুরু করলেও কঠোর নজরদারিতে তা ধরা পড়ছে।
জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাদক। স্থানীয় প্রশাসন, এলাকার গণমান্য ব্যক্তি, সাধারণ বাসিন্দাসহ সবাই অতিষ্ঠ এই মাদকে। সবাই একবাক্যে বলতেন, মাদক নিয়ন্ত্রণই বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের কঠোর নির্দেশনায় সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছেন মুরাদনগর থানা ও বাঙ্গরা বাজার থানার নবাগত এই দুই ওসি। মাদকের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ইতিমধ্যে এলাকাবাসীর মধ্যে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন তারা।
দুই থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিঃ মুরাদনগর থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। যোগদানের পর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মুরাদনগর থানায় ১৩টি মাদক মামলায় ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও একজন কুখ্যাত ডাকাতকে আটক করায় মুরাদনগর-ইলিয়াডগঞ্জ রোডে বর্তমানে ডাকাতের উৎপাত বন্ধ রয়েছে বলেও জানা যায়। অপরদিকে গত ২ মে ২০২৬ খ্রিঃ বাঙ্গরা বাজার থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন মোঃ শফিউল আলম। যোগদানের পর থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বাঙ্গরা বাজার থানায় ১১ টি মাদক মামলায় ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসন। এপর্যন্ত বহু মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছে প্রশাসন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, মাদকসেবীদের জন্য সন্ধ্যার পর রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেও ভয় হয়। মাদকের এই করাল গ্রাস যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এলাকায় দিন দিন বাড়ছে অপরাধ প্রবণতা। তবে নবাগত দুই থানার ওসি যোগদানের পর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে যেভাবে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন, সেটা নিয়মিত চলতে থাকলে সমাজে মাদক ও অপরাধ প্রবণতা কমে যাবে। জনমনে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ নিশ্চিত হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দায়িত্বশীলতা, কর্মদক্ষতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সফল ভূমিকার জন্য দুই থানার ওসি দক্ষ ও অভিজ্ঞ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত। বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনকালে ওনারা মাদক, অপরাধ দমন, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখেছেন।
মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, আমার প্রধান চ্যালেঞ্জ মাদক ব্যবসা বন্ধ ও মাদকমুক্ত মুরাদনগর থানা উপহার দেয়া। মাদক নিয়ন্ত্রণে আমি নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। নিজে অভিযানে যাচ্ছি। যেখান থেকেই অভিযোগ আসছে, সময়ক্ষেপন না করে সেখানেই অপারেশন চালাচ্ছি। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শফিউল আলম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে। মাদক মুক্ত সমাজ গড়তে আমাদের অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং কোনো অবস্থাতেই মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড় দেওয়া হবে না।
মুরাদনগর উপজেলাকে মাদক মুক্ত করতে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানায় ওসি মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী ও ওসি মোঃ শফিউল আলম। উভয় থানার ওসি সচেতন নাগরিকদের মাদকের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

