শাল্লা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
মোঃ দিলুয়ার হোসেন
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় মাঠ থেকে কৃষকের গৃহপালিত ভেড়া চুরি করে নিয়ে যাওয়ার সময় এক চোরকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা ও বাজার ব্যবসায়ীরা।
আটককৃত ব্যক্তির নাম গোপাল ঋষি (৪৫)। সে ৩ নং বাহারা ইউনিয়নের কলাকান্দি গ্রামের মৃত সুধাংশু ঋষির ছেলে।
আজ১৭ মে রবিবার সকালে উপজেলার ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে ভেড়াসহ তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে গোপাল ঋষি মাঠ থেকে একটি মেড়া নিয়ে আসছিল।
কিন্তু চতুরতার আশ্রয় নিয়ে সে নিজের কেনা একটি মেড়ার সাথে ডুমরা গ্রামের রতিশ দাসের মাঠে থাকা একটি মেড়া কৌশলে মিশিয়ে একসাথে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে।
ঘুঙ্গিয়ারগাঁও বাজারে দায়িত্বরত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের চোখে তার এই চালাকি ও সন্দেহজনক আচরণ ধরা পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত জনতা ধাওয়া করে মেড়াসহ তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে, চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর উত্তেজিত জনতা তাকে গণধোলাই (উত্তম-মাধ্যম) দেয়।
চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ার পর চোর গোপাল ঋষি নিজের অপরাধ স্বীকার করে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। সে অকপটে জানায়, বিগত ৮ বছর যাবৎ সে মেড়া কেনা-বেচার আড়ালে মূলত মেড়া চুরি ও লোকচক্ষুর অন্তরালে নিয়ে জবাই (বলি) দিয়ে মাংস বিক্রি করার এক বিশাল সিন্ডিকেট চালিয়ে আসছিল।
গোপাল ঋষি ধরা পড়ার পর তার পূর্বের নানা অপকর্মের তত্ত্ব বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, গোপাল ঋষির মেড়া চুরির অভ্যাস’ দীর্ঘদিনের। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক ভেড়া চুরির অভিযোগ রয়েছে এবং এ নিয়ে এলাকায় স্থানীয়ভাবে সালিশ-বিচারও হয়েছে। কিন্তু তার স্বভাবের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, কিছুদিন আগেই সে স্থানীয় চায়ের দোকানদার মহল্লাল দাসের একটি মূল্যবান মেড়া একইভাবে চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। শুধু মহন লাল দাসই নন, এলাকার আরও অনেক কৃষকের মাঠ ও বাড়ি থেকে প্রায়শই মেড়া গায়েব হওয়ার পেছনে এই গোপাল ঋষির হাত রয়েছে, আজ প্রকাশ্যেই অভিযোগ তোলেন ক্ষুব্ধ জনতা।
এ বিষয়ে বাজারের বেশ কয়েকজম ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনের পর দিন কৃষকের মাঠ থেকে মেড়া চুরি হচ্ছিল, যা নিয়ে সবাই চিন্তিত ছিল। আজ হাতেনাতে ধরার পর জানা গেল, সে এভাবে বছরের পর বছর অপরাধ করে আসছে। তার এই যন্ত্রণায় এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল।”
ঘটনায় এক নতুন মোড় আসে যখন অভিযুক্ত গোপাল ঋষি তার এই ৮ বছরের চুরির সাম্রাজ্য এবং আজকের এই ন্যাক্কারজনক চুরির ঘটনা গণমাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে।
লোকলজ্জা এবং আইনি হাত থেকে বাঁচতে সে উপস্থিত সাংবাদিককে সংবাদ প্রকাশ না করার শর্তে আর্থিক প্রলোভন তথা উৎকোচ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়।
তবে সমস্ত প্রলোভনকে পায়ে ঠেলে দিয়ে, সততা ও পেশাদারিত্বের চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন কর্মরত সাংবাদিক।
তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং অপরাধীর আসল মুখোশ উন্মোচন করে চুরির ঘটনার প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে তুলে ধরার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ঘটে চলা এই রহস্যময় ভেড়া চুরির মূল হোতা আটক হওয়ায় এবং চুরির পেছনের অন্ধকার রহস্য উদঘাটিত হওয়ায় স্থানীয় কৃষক ও বাজারের ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।
একই সাথে সাংবাদিকের এমন সৎ ও আপসহীন ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। তবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনো চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এই চোরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এব্যপারে ঘুঙ্গিয়ার গাঁও বাজারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুবীর সরকার পান্না বলেন এত কশাইর ব্যবসা করে, এক মেরি দইরা আইন্না বাইন্দা রাখছে বলি দিয়ে মাংস বিক্রয় করার লাগি।
বাজারে কয়েকজন ব্যবসায়ি দেইখা আটক দিছে।
মেরির মালিক খোঁজতে খোঁজতে লোক মারফত জানতে পারে এখানে মেরি আছে, অখন যেখানে আমরা হিন্দু মানুষ মেরি খাইনা এ প্রতারণা করে পাঠার মাংসের সঙ্গে মেরির মাংস মিসাইয়া বিক্রি করে, এও কিনয়া না, চুরি করে, এর দৃষ্টান্ত মূলক বিচার চাই।

