রবিউল আলম – দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ও খলসি ইউনিয়নের মাঝামাঝি অবস্থিত শামবারাদিয়া গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত ও কাদার স্তূপ। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জিয়নপুর থেকে ঘিওর, বরংগাইল, আরিচা ও উথুলীসহ বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক এটি। এছাড়া জাকের বাড়ি মোড় থেকে শামবারাদিয়া পর্যন্ত সড়কের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। প্রতিদিন শত শত মানুষ, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান এবং পণ্যবাহী যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার না হওয়ায় এটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এই সড়কটি জিয়নপুর, খলসি ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পাশাপাশি ঘিওর ও শিবালয় উপজেলার হাজারো মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তে পানি জমে আছে। কোথাও কোথাও কাদার কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অটোরিকশা ও ভ্যান মাঝপথে আটকে যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের নেমে যানবাহন ঠেলে পার হতে হচ্ছে। মোটরসাইকেল চালকদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শুভ আহম্মেদ বলেন, “বর্ষা মৌসুমে এই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত এবং কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।”
জিয়নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “গত অর্থবছরে এই সড়কের জন্য কোনো বরাদ্দ পাইনি। তবে দ্রুত বরাদ্দ এনে সড়কটির উন্নয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবিতে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে চলমান বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং শামবারাদিয়া সড়কটি সংস্কারের মাধ্যমে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটাবে।

