• আজকের পত্রিকা
  • ই-পেপার
  • আর্কাইভ
  • কনভার্টার
  • অ্যাপস
  • বাঘার জাহিদ করেনি জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণ, হয়েছেন “জুলাই যোদ্ধা’ গেজেটভুক্ত 

     swadhinshomoy 
    26th Aug 2025 12:47 pm  |  অনলাইন সংস্করণ Print
    হাবিল উদ্দিন,বাঘা(রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

    সরকার পতনের আন্দোলনে নয়,পারিবারিক বিরোধের জেরে আহত হয়েছিলেন বাঘার ছেলে জাহিদ হাসান (২২)। অথচ সরকার পতনের আন্দোলনে অংশগ্রহণের দাবি করে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছেন তিনি। এমন ঘটনায় প্রকৃত আন্দোলনকারীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। জাহিদ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।

    সুত্র বলছে,ঢাকায় চাকরি করতেন জাহিদ। গত বছরের ১ আগস্ট ঢাকার চাকরি ছেড়ে নিজ গ্রামে ফেরেন। তখন দেশে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে আন্দোলন চলছিল। গ্রামে ফেরার পর জাহিদ সেই আন্দোলনকে পুজি করে পূর্বের পারিবারিক শত্রু মুস্তাক আহমেদ নামের এক স্কুলে শিক্ষককে হুমকি ধামকি দিতে থাকে। কারন তার পরিবারের সাথে মুস্তাক পরিবারের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব ছিল। পরে অর্থাৎ ২৪ সালের ৫ আগষ্ট সেই স্কুল শিক্ষকের পরিবারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান জাহিদ। এতে পাল্টা হামলার শিকার হয়ে সামান্য আহতপ্রাপ্ত হয়েছিলেন জাহিদ। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
    পরবর্তীতে জাহিদের বাবা রবিউল ইসলাম এঘটনায় পূর্বশত্রুতার জের উল্লেখ করে বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। যেখানে ৮-১০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরবর্তীতে এই ঘটনার রেস ধরে জাহিদপক্ষের লোকজন প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালায়। এমন পরিস্থিতিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ রঞ্জুর সমঝোতায় ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আপোষে মিমাংসা করে দেন। অথচ সেই চিকিৎসার কাগজপত্র উপস্থাপন করে জাহিদ নিজেকে সরকার পতনের আন্দোলনে আহত হিসেবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করেন এবং গেজেটপ্রাপ্ত হন। তার গেজেট নম্বর ৮৩৪। মেডিকেল কেস নাম্বার ৫৯৯০। এঘটনায় হাসপাতালের রিলিজপত্রের কপি, ঐ ঘটনার মামলার কপি এবং ৬ লক্ষ টাকার আপোষ মিমাংসার কপি গণমাধ্যমের নিকট সংরক্ষিত রয়েছে।
    এ বিষয়ে মামলার বাদী ও জাহিদের বাবা রবিউল ইসলামের সাথে কথা বললে প্রথমে তিনি দ্বিধাদ্বন্দে পড়েন। পরে স্বীকার করেন, “জাহিদকে স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ সমর্থক লোকজন মেরেছিল। তবে আন্দোলনে সে অংশ নিয়েছিল কিনা তিনি জানেন না।” পরে তিনি জাহিদের সাথে কথা বলতে বলেন। তারপর কথা হয় জাহিদের সাথে। শুরুতে তিনি প্রতিবেদকের উপর চড়াও হন। এরপর দীর্ঘক্ষণ কথা হয় জাহিদের সাথে। তিনি আন্দোলনে অংশগ্রহণের দাবি করলেও তেমন কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি।
    পরে জাহিদের হামলার ঘটনা নিয়ে কথা হয় বিবাদী নয়নের সাথে। তিনি জানান, জাহিদের পরিবারের সাথে জমি নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের শত্রুতা রয়েছে। ৫ আগষ্টে জাহিদ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের মারতে এসেছিলেন। কিন্তু উল্টো সে আহত হয়ে ফিরে যায়। এঘটনায়তাদের বাপ চাচাদের উপর মামলা করেছে জাহিদ পরিবার। পরে রঞ্জু চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ৬ লাখ টাকার বিনিময়ে মিমাংসা করে নিয়েছে। তারপরও জাহিদ দলবল নিয়ে তেদের বাড়িতে হামলা চালিছে বলে দাবি করেছেন। নয়নের দাবি, জাহিদ সাবেক প্রতিমন্ত্রী সাহরিয়ার আলম এমপির আস্থাভাজন আওয়ামী নেতা ও বাঘা পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র শাহিনুর রহমান পিন্টু ক্যাডার হিসেবে কাজ করত। সেই ক্ষমতা এখনও দেখাতে চাই। সে এখন ছাত্রদলের রাজনীতির পরিচয় দিচ্ছে।
    এঘটনায় চন্ডিপুর গ্রামের একজন বাসিন্দা বলেন: “আমরা সবাই জানি ৫ আগস্ট দুপুরের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা এলাকায় ছিল না। তাই ওই দিন রাতে আওয়ামী সমর্থকরা কাউকে মারতে পারে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। প্রতারণার মাধ্যমে কেউ আন্দোলনকারীর স্বীকৃতি পেলে প্রকৃত যোদ্ধাদের প্রতি বড় অবিচার হবে।”
    কৃষক রহিম নামের এক কৃষক বলেন: “যারা সত্যিকারের আন্দোলন করেছে, তারা এখনও গেজেট পায়নি। অথচ কিছু মানুষ মিথ্যা কাগজপত্র দিয়ে গেজেট পাচ্ছে। এটা শুধু দুর্নীতি নয়, জনগণের সাথে রীতিমত প্রতারণা।”
    স্থানীয় এক শিক্ষক বলেন: “জুলাই আন্দোলন একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। সেখানে অংশগ্রহণ না করেও কেউ যদি ভুয়া প্রমাণ দেখিয়ে গেজেট পায়, তবে আন্দোলনের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে। প্রশাসনকে অবশ্যই বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। এই ধরনের মিথ্যা দাবির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নেওয়া মানে জনগণের টাকা চুরি করা।”
    বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহীর জেলা প্রশাসনের এক সিনিয়র সহকারি কমিশনার এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, “এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্তও করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছি। আপনার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। আমরা জাহিদের ব্যাপারে রিপোর্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি, সিদ্ধান্ত সেখান থেকে আসবে। এমন প্রতারণার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রাহন করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় গেজেট বাতিল করলে পরবর্তীতে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
    এমন ন্যক্কারজনক ঘটনায় প্রকৃত আন্দোলনকারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, “যারা সত্যিকারের আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন, তারা এখনও স্বীকৃতি পাননি। অথচ ভুয়া পরিচয় দিয়ে অনেকে সুবিধা নিচ্ছে। এর উৎকৃষ্ট উদাহরন আজকের এই জাহিদ হাসান।
    উপরের নিউজটি মাঠ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে করা এ বিষয়ে কোন দ্বিমত থাকলে প্রমাণসহ dailyswadhinshomoy@gmail.com এ ইমেইল করে আমাদেরকে জানান অথবা আমাদের +88 01407028129 নাম্বারে হোয়াটসঅ্যাপ করুন।
    আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
    এই বিভাগের আরও খবর
     
    Jugantor Logo
    ফজর ৫:০৫
    জোহর ১১:৪৬
    আসর ৪:০৮
    মাগরিব ৫:১১
    ইশা ৬:২৬
    সূর্যাস্ত: ৫:১১ সূর্যোদয় : ৬:২১

    আর্কাইভ

    August 2025
    S M T W T F S
     12
    3456789
    10111213141516
    17181920212223
    24252627282930
    31