মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম ব্যুরো:
বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের অধীনে যে সকল কলোনি রয়েছে চট্টগ্রামে প্রায় সবগুলো কোলোনিতে মাদক সেবীদের আসা-যাওয়া প্রতিনিয়ত। এসব কলোনি এখন মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় মিনি পতিতালয় গড়ে তুলেছে কলোনিতে বসবাসকারীরা। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা যেন এসব দেখেও না দেখার ভান করে। কিছু কিছু কর্মকর্তার কাছে মাসোহারা আসার কারণে এসব অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িতরা পার পেয়ে যায়।
তথ্যনুসন্ধানে জানা যায় নগরীর টাইগার পাস আমবাগান এলাকা পাহাড়তলী এলাকা আগ্রাবাদ ডেবার পাড় এলাকা চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থিত রেলওয়ে কলোনি গুলোতে বসবাস করার কথা রেলওয়ে কর্মকর্তা কর্মচারীদের কিন্তু কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ দিয়ে এসব বাসায় তারা বসবাস না করে বাইরের লোকজনকে ভাড়াটিয়া হিসেবে ভাড়া দেয়। সেই সুবাদে এসব কোলে নিতে অবস্থান করা বাইরের লোকজন অপরাধের স্বর্গরাজ্য বানিয়ে রেখেছে কলোনিগুলো। বিশেষ করে মাদক কারবারি ও মাদক সেবনকারী এখানে প্রতিনিয়ত তাদের মাদকের বাণিজ্য নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। মাঝে মাঝে কিছু জায়গায় মিনি পতিতালয় গড়ে তুলেছে কলোনিগুলোতে বসবাসকারীরা। নগরীর চোর চিনতাই কারী ও অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িত অপরাধীরা এখানে নির্বিঘ্নে বসবাস করে। বরাদ্দ দেয়া এসব ভাষায় না থাকার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন এসব কলোনিতে থাকার কোন পরিবেশ নেই বিশেষ করে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীরা এখানে বসবাস করা সন্তানদের লেখাপড়া এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে এখানে বসবাস করা যায় না। এসব কলোনিতে সবচাইতে বেশি উৎপাত হলো মাদক কারবারীদের তাই তার নামে বরাদ্দ দেয়া বাসা ভাড়া দিয়ে সে অন্যত্র বসবাস করে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কর্মকর্তারা বলেন সঠিক নিরাপত্তার অভাব এবং ব্যবস্থাপনা না থাকার কারণে কলোনি গুলোতে অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়ে উঠেছে। অনেক সময় স্থানীয় প্রশাসনকে চিঠি দিয়েও এর প্রতিকার পাওয়া যায় না। স্থানীয় থানাগুলোর সাথে মাদক কারবারিদের আঁতাত রয়েছে বলে কর্মকর্তারা বলেন কলোনীগুলোতে বসবাসকারী অপরাধীরা মাসিক হারে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে তাদের বিভিন্ন অপরাধ করার সুযোগ পেয়ে থাকে কিছু কিছু রেলের কর্মকর্তারাও এগুলোর সাথে জড়িত থাকায় সঠিক কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাচ্ছে না। তাই প্রায় সময় এসব কলোনি গুলোতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আগামীতে এসব কলোনি গুলো থেকে অপরাধ নির্মূলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার ও পরিকল্পনা রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানেজার মোঃ সবুক্তগীন বলেন আগামীতে যাদের নামে এসব কলোনিতে বাসা বরাদ্দ হবে তাদের বসবাস নিশ্চিত করা হবে। এবং এই প্রক্রিয়া সঠিকভাবে সম্পন্ন করা গেলে কলোনিগুলোতে অপরাধের প্রবণতা কমে আসবে বলে তিনি জানান। কলোনি গুলোর অপরাধীদের সাথে যোগাযোগ রাখা কর্মকর্তা কর্মচারীদেরও চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও তিনি জানান।

